জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন যে ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হবে। শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্কে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। তারেক রহমান বলেন নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে কাজ করবে বিএনপি।
বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং এখানকার তাঁতপণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করার জন্য বিশেষ বাণিজ্যিক উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বিগত দিনের স্বৈরাচারী শাসনের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন ৫ আগস্ট যারা পালিয়ে গিয়েছে তারা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার এবং কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। এই অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে মেরির মতো অনেক নারী ও পুরুষ নির্যাতিত হয়েছেন।
তিনি বলেন যারা দেশের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করতে হবে। শুধু সভা-সমাবেশ করে এটি সম্ভব নয় বরং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এর প্রকৃত প্রতিদান দেওয়া সম্ভব। তিনি ভোটারদের আগামী ১২ তারিখে ঐক্যবদ্ধভাবে কেন্দ্রে যাওয়ার এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রীতির বিষয়ে তারেক রহমান তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন বিএনপি সব সময় শান্তিতে বিশ্বাস করে।
তিনি বলেন আমাদের কাছে মুখ্য পরিচয় হচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিক। এখানে কোনো জাত-পাত বা ধর্মের ভেদাভেদ থাকবে না। আমরা সবাই মিলেমিশে একটি শান্তিময় বাংলাদেশ গড়তে চাই। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন স্বৈরাচারের পতন হলেও এখন দেশ গড়ার গুরুদায়িত্ব আমাদের সবার ওপর। তাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাইকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সিরাজগঞ্জের এই জনসভায় তার সফরসঙ্গী হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান যা উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর সিরাজগঞ্জের মাটিতে প্রিয় নেতার আগমনে জনসভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সিরাজগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকা ও আশপাশের সড়কগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জনসভায় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবার একটি গণতান্ত্রিক ও আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। নির্বাচনি এই প্রচারণায় তারেক রহমানের উপস্থিতি পুরো উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন