এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১১:৪০ এএম
জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিকে সাধারণ মানুষ জামায়াতে ইসলামীর একটি অংশ হিসেবে মনে করে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তাঁর মতে, এনসিপি বর্তমানে যে ধরনের দ্বিচারিতা বা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতি গ্রহণ করেছে, তা সাধারণ জনগণের কাছে খুব একটা গ্রহণযোগ্য হবে না।
গত রোববার (১৯ এপ্রিল) একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের টকশোতে অংশ নিয়ে জাপা চেয়ারম্যান এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নিয়ে তাঁর এই পর্যবেক্ষণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, অতীতে কেউ ছাত্রলীগ করলেও বর্তমানে তারা দলটিতে যোগ দিতে পারবে। এই প্রসঙ্গের সূত্র ধরে জিএম কাদের প্রশ্ন তোলেন যে, এনসিপি হঠাত করে জাতীয় পার্টির পেছনে কেন লাগল।
তিনি ধারণা করছেন, এনসিপি মূলত জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা ভোটব্যাংকটি নিজেদের দখলে নিতে চায়। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ বা বিএনপির ভোটব্যাংক দখল করা তাদের জন্য সহজ হবে না বলেই তারা এখন জাতীয় পার্টির প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নেমেছে। মানুষের ধারণা যে তারা জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, সেটিও তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন।এনসিপির বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করে জিএম কাদের আরও বলেন, দলটির নেতারা এখন সারা দেশে হন্যে হয়ে লোক খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, কেউ এনসিপিতে যোগ দিলেই তার সব অতীত অপরাধ মকুব হয়ে যাচ্ছে, অথচ যারা যোগ দিচ্ছে না তাদের ‘দোসর’ বা ‘ক্রিমিনালস’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
এই ধরনের স্ববিরোধী অবস্থান জনগণ ভালো চোখে দেখবে না। জেনজি বা নতুন প্রজন্মের মাঝে যে আবেগ তারা তৈরি করতে পেরেছিল, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের কারণে সেটি তারা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, শুরুতে সাধারণ মানুষ ভেবেছিল এই তরুণরা নির্লোভ ও দেশপ্রেমিক, কিন্তু বর্তমানে তাদের সেই ভাবমূর্তি আর আগের মতো স্বচ্ছ নেই।টকশোর এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে মুখ খোলেন জিএম কাদের।
তিনি স্বীকার করেন যে, ক্ষমতা পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তবে সেই আলোচনার গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এটি ছিল একান্তই সৌজন্যমূলক যোগাযোগ। সেখানে কেবল একে অপরের কুশল বিনিময় এবং স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে রাজনীতিতে ফেরা কিংবা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কোনো কথা হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন। জাপা চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন