সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
রক্তপাত ও বিধান

রক্ত বের হয়ে মুছে ফেললে অজু থাকার নিয়ম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

রক্ত বের হয়ে মুছে ফেললে অজু থাকার নিয়ম

শরীরের কোনো ক্ষতস্থান থেকে রক্ত, পুঁজ কিংবা পানি বের হয়ে যদি নিজ স্থান অতিক্রম করে সামান্য পরিমাণেও গড়িয়ে পড়ে, তবে অজু ভেঙে যায়। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে আবার অজু সম্পন্ন করা আবশ্যক। তবে রক্ত বের হওয়ার পর গড়িয়ে পড়ার আগেই যদি কেউ তা টিস্যু বা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলেন, কিংবা ক্ষতের ওপর দ্রুত কোনো ব্যান্ডেজ বা পট্টি লাগিয়ে দেন, সে ক্ষেত্রে অবস্থার ওপর ভিত্তি করে শরিয়তে দুটি ভিন্ন বিধান রয়েছে।

প্রথমত, ক্ষতস্থান থেকে বের হওয়া রক্তের পরিমাণ যদি এতটা বেশি হয় যে ব্যক্তি নিজে থেকে তা মুছে না ফেললে রক্ত নিশ্চিতভাবেই গড়িয়ে পড়ত, তবে তার অজু ভেঙে যাবে। তখন সালাত আদায় করতে হলে নতুন করে অজু করা ছাড়া উপায় থাকবে না। দ্বিতীয়ত, যদি ক্ষত থেকে বের হওয়া রক্তের পরিমাণ অতি সামান্য হয় এবং তা পরিষ্কার না করলেও আপনাআপনি গড়িয়ে পড়ার মতো অবস্থা না থাকত, তবে অজু বহাল থাকবে। অর্থাৎ এই সামান্য রক্তের ক্ষেত্রে মুছে ফেলা হলেও পুনরায় অজু করার বাধ্যবাধকতা নেই।

অজু নবায়ন ও সঠিকভাবে তা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে হাদিসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নুআইম মুজমির (রহ.) বর্ণনা করেন, তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে ওঠেন। সেখানে অজু সম্পাদন করে আবু হুরায়রা (রা.) জানান, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তাঁর উম্মতকে এমন অবস্থায় আহ্বান করা হবে যে অজুর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল দীপ্তিমান থাকবে। ফলে যে ব্যক্তি নিজের এই উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে সক্ষম, তার তা করা উচিত।

অজুর সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলির মধ্যে রয়েছে শুরুতে আন্তরিকভাবে নিয়ত করা এবং বিসমিল্লাহ পাঠের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের সূচনা করা। এরপর উভয় হাত কবজি পর্যন্ত ধৌত করতে হবে। পরবর্তী ধাপে মুখ পরিষ্কারের জন্য তিনবার কুলি করা এবং নাকে পানি দিয়ে তা ভেতর থেকে ভালোভাবে পরিষ্কার করার বিধান রয়েছে।

দাড়ি যদি ঘন হয়, তবে আঙুল দিয়ে খিলাল করা নিয়ম। এরপর মুখমণ্ডলের পর হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করে কান ও ঘাড় বা গর্দান মাসেহ করতে হবে। পায়ের আঙুল খিলাল করার পাশাপাশি প্রতিটি নির্ধারিত অঙ্গ তিনবার করে ধোয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় ডান দিক থেকে শুরু করা এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ধারাবাহিকভাবে পবিত্রতা অর্জন সম্পন্ন করতে হয়।