সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নে প্রায় পাঁচ হাজার পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের স্পষ্ট দুর্বলতা ও ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। এই মূল্যায়নের সঙ্গে জড়িত ব্যর্থ পরীক্ষকদের ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতে উত্তরপত্র প্রকৃত অর্থে পুনরায় যাচাই বা নতুন করে মূল্যায়নের কোনো সুযোগ কার্যকর ছিল না।সেই সময় মূলত টেবুলেশন শিট দেখে শুধুমাত্র পূর্ববর্তী নম্বর যোগ করে ফলাফল প্রকাশ করা হতো।তবে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে ১৯৮০ সালের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা আইনের বিধিমালার মধ্যে খাতা সরাসরি পুনর্মূল্যায়নের আইনি বিধান আনুষ্ঠানিকভাবে সংযোজন করা হয়েছে। এ বছর খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রায় চার লাখ আবেদন জমা পড়েছিল বলে মন্ত্রী তথ্য দেন।
তত্ত্বীয় উত্তরপত্রের জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার এবং ব্যবহারিক বিষয়ের জন্য দুই লাখ ৩১ হাজার আবেদন দাখিল করা হয়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে মোট স্ক্রিপ্ট বা উত্তরপত্রের আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১২ লাখ ৮৭ হাজার, যা সামগ্রিক পাসের মোট সংখ্যার চেয়েও বেশি। পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বিস্ময়কর ফলাফল প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, পুনঃনিরীক্ষার পর সর্বমোট ২৭ হাজার ৮৩৬ জন পরীক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক গ্রেড পরিবর্তিত হয়েছে। নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে মোট ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রাথমিক ফলাফলে অকৃতকার্য দেখানো চার হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী নতুন করে পাস করেছেন।
ফলাফলের অসঙ্গতি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী যারা শুরুতে ফেল করেছিল, খাতা যাচাইয়ের পর দেখা গেল তারা প্রকৃতপক্ষে উত্তীর্ণ হয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক হলো তিন হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থী পরবর্তীতে সর্বোচ্চ ফলাফল জিপিএ পাঁচ বা এ প্লাস অর্জন করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিগত বছরগুলোতে এই পূর্ণাঙ্গ যাচাই ব্যবস্থা না থাকার কারণে কত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী তাদের প্রকৃত ফলাফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত অকৃতকার্যতার গ্লানি সইতে না পেরে অতীতে অনেক পরীক্ষার্থী আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিয়েছে।
সেই মর্মান্তিক বাস্তবতা গভীরভাবে উপলব্ধি করেই এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে, যার ফলে ভবিষ্যতে ফলাফল নিয়ে হতাশা থেকে এমন আত্মহননের ঘটনা আর ঘটবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় সামনে আরও কিছু কার্যকর সংস্কার ও নতুন উদ্যোগ আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, খাতা পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরীক্ষকদের পেশাগত দুর্বলতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। যেসব পরীক্ষক ভুল মূল্যায়ন করেছেন তাদের খাতাগুলো আলাদা করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে মূল্যায়িত এসব খাতার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং সে অনুযায়ী শিক্ষকদের আধুনিক পেশাগত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
যারা দায়িত্বশীল এই মূল্যায়নে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা শিগগিরই দৃশ্যমান হবে বলে মন্ত্রী সতর্ক করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন