সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের বিনামূল্যে এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি উপহার দেওয়ার অভিনব এক সরকারি প্রকল্প চালু করেছে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্য সরকার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে এই কল্যাণমূলক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। থাই মামান থাঙ্গা মোথিরাম থিট্টাম বা মাতুলের সোনার আংটি প্রকল্প নামে এই উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি ছিল মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর অন্যতম।
এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য প্রতিটি নবজাতককে ২২ ক্যারেট মানের এক গ্রাম ওজনের একটি করে খাঁটি সোনার আংটি দেওয়া হবে। নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সোনার আংটিতে আলাদা স্বতন্ত্র সিরিয়াল নম্বর খোদাই করা থাকবে। আংটিগুলো বিতরণ করা হবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং আগে খোলা হয়েছে কি না তা সহজে শনাক্ত করার মতো বিশেষ প্যাকেটে। তামিলনাড়ু সরকার জানিয়েছে, প্রকল্পের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে এক লাখ ২৮ হাজার সোনার আংটি প্রস্তুত করে মজুত রাখা হয়েছে। এই ব্যাপক উদ্যোগ পরিচালনার জন্য রাজ্য সরকার বার্ষিক ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি বাজেট বরাদ্দ অনুমোদন করেছে।
এই বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। সুবিধা পেতে হলে নবজাতকের মাকে অবশ্যই তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। এর পাশাপাশি তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বা পিকমে ডেটাবেসে নিবন্ধিত থাকতে হবে এবং তার কাছে নিজস্ব প্রজনন ও শিশু স্বাস্থ্য বা আরসিএইচ পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। সরকারি নিয়মে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২২ জুন কিংবা এর পরে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। চলতি বছরের ২২ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প উদ্বোধনের দিন পর্যন্ত যেসব শিশুর জন্ম হয়েছে, তাদের জন্য আলাদা বিতরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
এমন শিশুদের জন্য রাজ্যের ১০৭টি নির্দিষ্ট বিতরণকেন্দ্রের মাধ্যমে আংটি হস্তান্তরের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিতরণকেন্দ্র থেকে দৈনিক ১০০ জন যোগ্য শিশুকে এই আংটি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে সোমবার প্রকল্প চালুর পর থেকে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে মা ও সন্তান হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরার সময়ই সরাসরি এই উপহার তুলে দেওয়া হবে।
তামিলনাড়ু সরকারের ভাষ্যমতে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য কেবল নবজাতককে উপহার দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মাতৃত্বকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো, প্রান্তিক নারীদের মাঝে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবার সচেতনতা বাড়ানো এবং সাধারণ পরিবারগুলোকে সরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসব করাতে উৎসাহিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। তামিল স্থানীয় সংস্কৃতিতে নতুন শিশুর জন্মের পর মামা বা মায়ের ভাইয়ের বিশেষ পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব থাকে। সেই সম্পর্কের প্রতীকী রূপ তুলে ধরতেই প্রকল্পটির নামকরণ করা হয়েছে।
রাজ্যের মন্ত্রী অরুণ রাজ উল্লেখ করেন, সন্তান জন্মের শুভমুহূর্তে একজন মামা যেভাবে বোন ও নবজাতকের আজীবন পাশে থাকার সামাজিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে সরকার সেই রক্তের সম্পর্কের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানাচ্ছে। তবে সরকারের এই চমকপ্রদ উদ্যোগ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনাও শুরু হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল ডিএমকের জ্যেষ্ঠ নেতা টিকে এস এলাঙ্গোভান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন বিনামূল্যে সোনার আংটি বিলিয়ে তাদের বাস্তব সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না।
তিনি রাজ্যের কৃষকদের চলমান সংকট ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির দিকগুলো বিশেষভাবে তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোর ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তামিলনাড়ু মেডিকেল সার্ভিসেস করপোরেশনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক সোনার আংটি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি গভীর আইনি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলেছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন