সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
নামাজ আদায়ের জন্য কিবলা বা কাবা শরিফের দিকে মুখ করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি বিধান।
কিবলামুখী হওয়া ছাড়া স্বাভাবিক অবস্থায় নামাজ শুদ্ধ হয় না। বাহ্যিকভাবে মুসল্লি কাবার দিকে মুখ ফেরান এবং আত্মিকভাবে একাগ্র থাকেন আল্লাহর প্রতি। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৫০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, যেখান থেকেই বের হওয়া হোক না কেন, মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাতে হবে এবং যেখানেই অবস্থান থাকুক না কেন, ওই কাবার দিকেই মুখ করতে হবে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ফরজ কিংবা নফল সব নামাজেই কাবার দিকে মুখ করতেন। হাদিস অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ভুলে অন্য দিকে ফিরে নামাজ আদায়ের উপক্রম করলে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, উত্তমরূপে অজু করার পর কিবলার দিকে মুখ করে তাকবির বলতে হবে।
তবে কোনো স্থানে কিবলার দিক নিয়ে সংশয় বা অনিশ্চয়তা দেখা দিলে মুসল্লিকে দিক নির্ণয়ে যথাসম্ভব চেষ্টা চালাতে হবে। স্থানীয় কোনো ব্যক্তির সন্ধান পেলে তাকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নেওয়া প্রাথমিক দায়িত্ব। যদি কাউকে না পাওয়া যায়, তবে নিজের চিন্তাভাবনা ও বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে যেদিকে কিবলা হওয়ার প্রবল ধারণা জন্মায়, সেদিকে ফিরেই নামাজ আদায় করতে হবে। এতে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে দিক নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের নির্ভরযোগ্য অ্যাপের কম্পাস কিংবা সমজাতীয় আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। এসব যাচাইয়ের মাধ্যমে কিবলা নির্ধারণ করে নামাজ আদায় করলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হবে।
যথেষ্ট বিচার-বিশ্লেষণ ও চেষ্টার পর কোনো ব্যক্তি নামাজ শেষ করার পর যদি জানতে পারেন যে কিবলা ভুল ছিল, তবে গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী সেই নামাজ আর দ্বিতীয়বার পড়তে হবে না।হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, এক সফরে রাসুলুল্লাহর (সা.) সঙ্গে থাকাকালে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। সাহাবিদের মধ্যে কিবলার দিক নিয়ে মতভেদ হলে প্রত্যেকে নিজ নিজ ধারণা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন দিকে মুখ করে নামাজ পড়েন। নিজেদের অবস্থান চিহ্নিত রাখতে মাটিতে দাগও টানা হয়। পরদিন সকালে তারা বুঝতে পারেন যে কিবলার দিকটি সঠিক ছিল না। বিষয়টি মহানবীকে (সা.) জানালে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে তাদের নামাজ আদায় হয়ে গেছে এবং তা পুনরায় পড়তে হবে না।
আইনশাস্ত্রবিদ মাহমুদ বিন মাযাহ (রহ.) উল্লেখ করেছেন, কিবলার দিক নিয়ে সন্দেহ হলে সর্বোচ্চ চিন্তাভাবনা করে প্রবল ধারণার ভিত্তিতে নামাজ আদায় করলে তা সম্পন্ন হয়ে যাবে, এমনকি পরে তা ভুল প্রমাণিত হলেও।
তবে নামাজ আদায়রত অবস্থায় যদি কোনো মুসল্লি কিবলার সঠিক দিক জানতে পারেন, তবে কালক্ষেপণ না করে নামাজের ভেতরেই তৎক্ষণাৎ সঠিক কিবলার দিকে ঘুরে যেতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন