জুলাই ২, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই বাংলাদেশ সেজে ওঠে নীল-সাদা রঙে। আর্জেন্টিনা থেকে ১৭ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দেশে আর্জেন্টিনার খেলা মানেই এক বিশাল উৎসব। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত রাস্তাঘাট ভরে যায় পতাকায়, বড় পর্দায় রাত জেগে চলে খেলা দেখার আয়োজন। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার প্রতি এই সমর্থনের শিকড় অনেক গভীরে, যার শুরুটা হয়েছিল ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে।
ম্যারাডোনা থেকে মেসি, এই ভালোবাসা অবিরাম।অনেকের মতে, ১৯৮৬ সালের সেই বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও আবেগ বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থান করে নেয়। তৎকালীন ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তার পারফরম্যান্স এবং পরবর্তীতে বিশ্বকাপ জয় এক নতুন আবেগের জন্ম দেয়। তৎকালীন ফুটবলার ও কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক জানান, ম্যারাডোনার কান্না কিংবা তার খেলার ধরন বাংলাদেশের মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল, যা তাদের চিরকালীন আর্জেন্টিনার ভক্ত করে তোলে।
নতুন প্রজন্মের কাছে মেসি মানেই এক জাদুকরী অধ্যায়। দ্বিন ইসলামের মতো তরুণরা যারা ম্যারাডোনাকে মাঠে দেখেননি, তারাও মেসির জন্য সমান আবেগপ্রবণ। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর বাংলাদেশের মানুষের উচ্ছ্বসিত সমর্থন বিশ্বজুড়ে নজর কাড়ে, যার ফলস্বরূপ ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনাও ঢাকায় নিজেদের দূতাবাস পুনরায় চালু করে। ফুটবল যেন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এক সেতুবন্ধন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোহাম্মদ জাহিরের মতো অনেকেই পরিবারের ঐতিহ্য থেকে আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েছেন। বাবার হাত ধরে খেলা দেখা শুরু করে পরে নিজেই দলের খেলার ধরন দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। আসন্ন ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় শেষ বত্রিশের ম্যাচে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। মেসি ও তার দল এখন নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায়, আর তাদের ঘিরে বাংলাদেশিরা আবারও প্রস্তুত তাদের নীল-সাদা আবেগে ভেসে যেতে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন