শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬,
শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ

চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনের অনন্য রূপ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনের অনন্য রূপ

রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে মৌলভীবাজার জেলার একটি নৈসর্গিক জনপদ শ্রীমঙ্গল, যা দেশবাসীর কাছে ‘চায়ের দেশ’ বা ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে সমাদৃত। এখানকার বিস্তীর্ণ সবুজ চা বাগান, বন্যপ্রাণীতে ভরপুর বনাঞ্চল এবং জলরাশির হাওর পর্যটকদের যুগ যুগ ধরে মুগ্ধ করে আসছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৪২৫ বর্গকিলোমিটার, যার চারপাশজুড়ে রয়েছে সমতল ও টিলাটক্করের মিশেল।

এখানকার প্রায় ৪৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক এলাকাই চা বাগানের দখলে। দেশের ১৬৩টি চা বাগানের মধ্যে একাই ৪০টি চা বাগান বুকে ধারণ করে আছে শ্রীমঙ্গল। মাইলের পর মাইলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সবুজ চা পাতার কারুকাজ আর শেড ট্রির ছায়া এই জনপদকে দিয়েছে এক অনন্য রূপ। চা শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঘামে গড়ে ওঠা এই বাগানগুলো শ্রীমঙ্গলের অর্থনীতির মূল প্রাণ। চা পাতার পাশাপাশি এখানে প্রচুর পরিমাণে লেবু, আনারস ও কাঁঠাল উৎপাদিত হয়, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের চাহিদা মেটায়।

প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য শ্রীমঙ্গলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।

প্রায় ৪,৭৫০ হেক্টর এলাক জুড়ে বিস্তৃত এই বনের একাংশ জাতীয় উদ্যান এবং বাকি অংশ রিজার্ভ ফরেস্ট হিসেবে সংরক্ষিত। এখানে রয়েছে প্রায় ১৭০ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং দুর্লভ প্রজাতির নানা বন্যপ্রাণী। এছাড়া শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র মাইলদুয়েক দূরে অবস্থিত হাইল হাওর জীববৈচিত্র্যের এক বিশাল ভাণ্ডার। পদ্মফুল ও জলজ লতাগুল্মে আচ্ছাদিত এই হাওর জেলে ও পর্যটকদের সমানভাবে টানে।

স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিও অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।

খাসিয়া, মনিপুরী, ত্রিপুরা ও গারো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস এই অঞ্চলে। তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও নকশী কাঁথার সুঁই-সুতার কাজ শ্রীমঙ্গলের সংস্কৃতিকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। কৃষিকাজ ও পশুপালনের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের নিপুণ হাতের কাজ এই জনপদের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।