এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অতিবৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে জানান যে, দেশের উত্তরাঞ্চল ও এর আশপাশের এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়েছে এবং তা আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।
এর প্রভাবে শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতির কারণে ময়মনসিংহ ও সিলেট মহানগরীর নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
অন্যদিকে আবহাওয়া নিয়ে কাজ করা বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকেই দেশের ওপর দিয়ে ‘ঝুমুল’ নামক একটি প্রাক-মৌসুমী বৃষ্টি বলয় সক্রিয় হতে শুরু করেছে। এই বৃষ্টি বলয়টি আগামী ৭ মে পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে দেশের অন্তত ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় এবং কোথাও কোথাও প্রবল বৃষ্টিপাতের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ইতিমধ্যে লক্ষ করা গেছে।
ভারতের মেঘালয়, আসাম এবং চেরাপুঞ্জি অঞ্চলে এই কয়েক দিনে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উজানের এই বিশাল পরিমাণ বৃষ্টির পানি পাহাড়ি ঢল হিসেবে নেমে আসার ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওর ও নিচু এলাকাগুলোতে স্বল্পমেয়াদী বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে আশার কথা হলো, এই বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে।
বৃষ্টির এই ধারা শুরুতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও এপ্রিলের শেষ দিকে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ এলাকায় নিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। এই সময়ে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির ফলে হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটার কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। কৃষকরা যদি সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারেন, তবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, টানা বৃষ্টির প্রভাবে সারা দেশের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। এপ্রিলের শেষ দিকে আবহাওয়া তুলনামূলক আরামদায়ক হয়ে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নিয়ে যেসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে, সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রির উপরে যাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, বরং বৃষ্টির কারণে জনজীবনে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন