রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাহাড়ে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

পাহাড়ে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের ঢাল ও উর্বর সমতলে এখন শীতকালীন সবজি চাষের ধুম পড়েছে। বিশেষ করে রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার পাহাড়ি জনপদে কৃষকরা এখন দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি বছরের অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই এবার কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় চাষিরা। 

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পাহাড়ের শীতল পরিবেশ সবজি চাষের উপযোগী হওয়ায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব টাটকা সবজি স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় বাজারগুলোতে পৌঁছাতে শুরু করবে।

 লংগদু উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় প্রায় ৮১৪ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করা হয়েছে।

 বিশেষ করে বগাচতর, ভাসান্যাদম ও গুলশাখালীর মতো এলাকাগুলোর উর্বর ভূমিতে কৃষকরা ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, টমেটো, আলু ও শিমসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল সবজি চাষ করছেন। অনেক কৃষক এবার নতুন করে স্কোয়াশ চাষেও আগ্রহী হয়েছেন। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন পরিকল্পিতভাবে উন্নত জাতের বীজ ও সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা গেলে এই অঞ্চলে সবজি চাষের পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব যা পাহাড়ের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 কৃষকরা জানিয়েছেন বন্যার কারণে শুরুতে চারা ও বীজ নষ্ট হওয়ায় বাজারে সবজির দাম কিছুটা চড়া থাকলেও নতুন ফসল বাজারে এলে দাম সাধারণ মানুষের নাগালে চলে আসবে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে যেন কোনো ধরনের রোগবালাই ফসলের ক্ষতি করতে না পারে।

 সরকার থেকে দেওয়া কৃষি প্রণোদনাও কৃষকদের এই কর্মব্যস্ততায় বাড়তি উৎসাহ জুগিয়েছে। পাহাড়ের এই মেহনতি মানুষের উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফেরার স্বপ্নে বিভোর পাহাড়ি কৃষকরা এখন কেবল ভালো বাজার দরের অপেক্ষায় রয়েছেন।