রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রঙিন ফুলকপি চাষে খুলনার কৃষকদের মুখে হাসি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

রঙিন ফুলকপি চাষে খুলনার কৃষকদের মুখে হাসি

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় রঙিন ফুলকপি চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষ করে হলুদ ও বেগুনি জাতের ফুলকপির বাম্পার ফলন চাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। প্রচলিত সাদা ফুলকপির তুলনায় এই রঙিন কপির বাজারমূল্য ও পুষ্টিগুণ অনেক বেশি হওয়ায় কৃষকরা এখন আধুনিক এই চাষাবাদের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

 চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষি অফিসের সঠিক দিকনির্দেশনায় ডুমুরিয়ায় প্রায় এক হেক্টর জমিতে এই নতুন জাতের ফুলকপি চাষ হয়েছে। 

উপজেলার খর্ণিয়া এলাকার আদর্শ কৃষক আবু হানিফ মোড়ল মাত্র ৩৩ শতক জমিতে হলুদ ফুলকপি চাষ করে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ করেছেন। তিনি জানান যে রঙিন এই কপিগুলো সাধারণত ক্যারোটিনা ইয়েলো নামে পরিচিত যা সাধারণ কপির চেয়ে অনেক বেশি বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ।

 বাজারে যেখানে সাদা ফুলকপি প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সেখানে এই রঙিন ফুলকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারছেন তারা। মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কৃষক শাহদাত হোসেন ও ববিতা সরকার ২০ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে রঙিন ফুলকপি চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। তারা জানান যে সরকার থেকে বিনামূল্যে বীজ, সার এবং জৈব কীটনাশক পাওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়েছে।

 খুলনা কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে তারা মূলত এখানকার মাটি ও আবহাওয়া রঙিন ফুলকপি চাষের জন্য কতটা উপযোগী তা পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন এবং ফলাফলে তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা জানান এবার উপজেলায় মোট ২৮০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হয়েছে যার বড় একটি অংশ রঙিন জাতের। 

কৃষকদের এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য সবজি চাষিরাও এখন রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে আগামী মৌসুমে যারা এই আধুনিক চাষাবাদে নামতে চান তাদের সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হবে। কৃষকদের এই উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা দেশের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করছে।