মার্চ ১০, ২০২৬, ১০:০০ পিএম
দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় চা চাষে এক অনন্য মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর সমতলে সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হয়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ মৌসুমে এ অঞ্চলে ২ কোটি ২ লাখ ৪২ হাজার ৫২ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে।
যা আগের মৌসুমের তুলনায় প্রায় ৫৮ লাখ ১০ হাজার কেজি বেশি। বর্তমানে এই অঞ্চলে চায়ের আবাদি জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫৯৯ একরে। মূলত সমতলের চা চাষ দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
উত্তরাঞ্চলের এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র চা চাষিদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। বর্তমানে এ অঞ্চলে ৩০টি বড় চা বাগান এবং ৮ হাজারের বেশি ক্ষুদ্রায়তনের বাগান রয়েছে। গত মৌসুমে এসব বাগান থেকে ৯ কোটি ৭৭ লাখ কেজির বেশি কাঁচা সবুজ পাতা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সংগৃহীত এই পাতা পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের ৩১টি কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি চা উৎপাদন করা হয়। চা বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক নির্দেশনার কারণে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলে সরাসরি প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।শীতকালীন দুই মাসের বিরতি শেষে বর্তমানে উত্তরের চা বাগানগুলোতে নতুন মৌসুমে পাতা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।
বসন্তের আগমনে বাগানে নতুন কুঁড়ি গজাতে শুরু করায় চা শ্রমিকদের মাঝে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে মৌসুম শুরু হতে মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে সবুজ চায়ের পাতার ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি সবুজ পাতা ৩৪ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা বটলিফ কমিটির নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি ২০২৬ মৌসুমে এ অঞ্চল থেকে প্রায় আড়াই কোটি কেজি চা উৎপাদন সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয় জানিয়েছে, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পর দেশের চা উৎপাদনে এখন দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে উত্তরবঙ্গ। এখানকার উৎপাদিত চায়ের মান ভালো হওয়ায় নিলাম বাজারে এর চাহিদাও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সমতলে চা চাষের এই বিপ্লব উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। সরকারের পক্ষ থেকে চা চাষিদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও সহায়তা প্রদান করা হলে ভবিষ্যতে এই উৎপাদনের ধারা আরও শক্তিশালী হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন