সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাগুয়ান গ্রামে নতুন জাতের বেগুন চাষ করে সফলতার দেখা পেয়েছেন কৃষক শাজাদ। নিজের এক বিঘা জমিতে তিনি বারি বেগুন ১২ এবং রঙ্গিলা এক নামের দুটি ভিন্ন জাতের বেগুন আবাদ করেছেন। আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় রোগবালাই কম হয়েছে এবং গাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কৃষক। ফলন ভালো হওয়ায় চলতি মৌসুমে খরচ বাদ দিয়ে দুই লাখ টাকার বেশি লাভের আশা করছেন তিনি।
বারি বেগুন ১২ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর আকার ও ওজন। প্রতিটি বেগুন স্বাভাবিক অবস্থায় এক কেজি পর্যন্ত হতে পারে। তবে বাজারে বিক্রির সুবিধার জন্য তিনি প্রতিটি বেগুন পাঁচশত থেকে ছয়শত গ্রাম ওজনের হলেই তুলে ফেলেন। সাধারণত প্রচলিত দেশীয় বেগুনের ওজন যেখানে দুইশত থেকে তিনশত গ্রাম হয়, সেখানে এই জাতের ওজন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। আকার বড় এবং স্বাদে ভালো হওয়ায় বাজারে এই জাতের চাহিদা বেশ ভালো।
গাছগুলোর বৃদ্ধি খুব দ্রুত হওয়ায় রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম ঘটে। চারা রোপণের সময় গাছ থেকে গাছের দূরত্ব রাখা হয়েছে তিন ফুট এবং সারির দূরত্বও তিন ফুট। প্রতি বিঘায় নয়শত থেকে এক হাজার চারা লাগে। জমিতে চারা রোপণের পঞ্চান্ন থেকে ষাট দিনের মাথায় গাছে ফল আসতে শুরু করে। ফল আসার প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে তা তুলে বাজারে বিক্রি করার উপযুক্ত হয়। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি বেগুন পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহে একবার জমি থেকে বেগুন সংগ্রহ করা হয় এবং প্রতি সপ্তাহে গড়ে কুড়ি থেকে পঁচিশ মণ বেগুন পাওয়া যাচ্ছে। আধা বিঘা জমিতে বারি বেগুন ১২ এবং বাকি জমিতে রঙ্গিলা এক জাত চাষ করা হয়েছে। রঙ্গিলা এক জাতের বেগুন আকারে কিছুটা ছোট এবং দেখতে বেগুনি রঙের। এর প্রতিটি বেগুনের ওজন প্রায় তিনশত থেকে সাড়ে তিনশত গ্রাম। তবে বারি বেগুন ১২ আকারে বড় এবং এর বর্ণ হালকা সবুজ। বাজারে এই হালকা সবুজ রঙের বেগুনের চাহিদা ও দাম বেগুনি রঙের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকে।
জমিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করায় সেচের পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে এবং বাড়তি কোনো আগাছা জন্মায়নি। জমিতে সার ও ওষুধ প্রয়োগ করলে তা সরাসরি গাছ গ্রহণ করতে পারে। সাধারণত যেখানে তিনবার সেচ দিতে হতো, মালচিং ব্যবহারের কারণে সেখানে একবার সেচ দিলেই চলে। যদিও মালচিং পেপার ব্যবহারে শুরুতে পাঁচ হাজার টাকার মতো বাড়তি খরচ হয়েছে, তবে আগাছা দমন ও শ্রমিকের খরচ কমে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রায় দশ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এক বিঘা জমিতে সম্পূর্ণ ফসল তুলে বিক্রি করলে চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকার মতো আয় হতে পারে। পুরো মৌসুমে সার, কীটনাশক, চারা ও পরিচর্যা বাবদ প্রায় এক লাখ থেকে এক লাখ বিশ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। বাজারে বেগুনের দর স্বাভাবিক থাকলে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দুই লাখ বিশ থেকে দুই লাখ চল্লিশ হাজার টাকা নিট লাভ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বাজারদর কিছুটা কমে গেলেও কমপক্ষে এক লাখ বিশ থেকে এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা লাভ ঘরে তোলা সম্ভব।
নতুনদের ক্ষেত্রে একবারে বড় জমিতে না গিয়ে শুরুতে দশ থেকে পনেরো শতাংশ জমিতে চাষের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন এই চাষি। আষাঢ় থেকে শ্রাবণ মাসে বীজতলা তৈরি করে ভাদ্র মাসে মাঠে চারা রোপণ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এছাড়া যেকোনো পোকা বা রোগের আক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ নিয়ে চাষাবাদ পরিচালনা করা নিরাপদ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন