বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
বারোমাসি মুলা চাষ

তালিবপুরে বারোমাসি মুলা চাষে ভাগ্য বদল কৃষকদের

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

তালিবপুরে বারোমাসি মুলা চাষে ভাগ্য বদল কৃষকদের

গ্রামের দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে এখন চলছে কেটিএস জাতের মুলা উত্তোলনের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন, আগে কেবল শীত মৌসুমেই মুলার আবাদ সীমাবদ্ধ ছিল। তবে উচ্চফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধী কেটিএস জাত উদ্ভাবনের পর এখন তালিবপুরের মাঠে বারোমাসই মুলার চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। এই জাতের মুলা গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত প্রায় সমান পুরু ও সোজা হয়, পেছনের লেজ অংশ ছোট থাকে এবং এর উজ্জ্বল চকচকে গড়নের কারণে বাজারে দ্রুত পাইকারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

অসময়ের বাজারে মুলার দাম বেশি পাওয়া যায়। স্থানীয় চাষি ওমর ফারুক জানান, শীতের ভরা মৌসুমে সরবরাহ বেশি থাকায় ক্ষেতে মুলার দর কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ১৬ টাকায় নেমে আসে। তবে অমৌসুমে একই মুলা বিক্রি করে অনেক বেশি মুনাফা ঘরে তোলা যায়। মুলার শিকড় অন্য সাধারণ জাতের তুলনায় অনেক ছোট হওয়ায় ক্ষেত থেকে তোলার পর আলাদা করে ছাঁটাই করতে হয় না। কেবল পাশের দিঘি বা খালের পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিলেই মুলা চকচকে রূপ ধারণ করে।

ভোরবেলা থেকেই নারী ও পুরুষ কৃষি শ্রমিকেরা ক্ষেতে নেমে মুলা তোলা, পাতা ছাঁটাই ও স্তূপ করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত শ্রমিকেরা মাঠে একটানা কাজ করেন। সংগৃহীত মুলা খাঁচায় ভরে খালের পানিতে পরিষ্কার করে শুকানোর পর প্লাস্টিকের ক্যারেটে ওজন করা হয়। বিকেলে ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা শহরের উদ্দেশে ট্রাক ও পিকআপে করে পাঠানো হয় এসব মুলা। ঢাকার আড়তে পাইকারি পর্যায়ে এই মুলা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে থাকে।

তালিবপুরের এই বারোমাসি চাষপদ্ধতি গ্রামীণ দিনমজুর, ক্ষুদ্র কৃষক ও গৃহিণীদের জন্য প্রায় সারাবছরই কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।