বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন

কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু ঝুঁকি ও অভিযোজনে প্রস্তুতি

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু ঝুঁকি ও অভিযোজনে প্রস্তুতি

তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় ৩১তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন তথা কপ-৩১-এ বাংলাদেশের জোরালো ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বহুমুখী প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে জলবায়ু ঝুঁকি, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, জলবায়ু অর্থায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার, কার্বন বাজার, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তৃণমূল উদ্যোগ তুলে ধরবে বাংলাদেশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কপ-৩১ কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভায় প্রস্তুতির এই সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়া শহরে কপ-৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই আয়োজনের অংশ হিসেবে আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে গত ১৮ আগস্ট একটি মূল কারিগরি সমন্বয় কমিটি এবং তিনটি বিশেষায়িত উপকমিটি গঠন করেছিল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এই তিনটি উপকমিটি হলো—পজিশন পেপার প্রণয়ন উপকমিটি, প্যাভিলিয়ন স্থাপন ও সাইড ইভেন্ট আয়োজন উপকমিটি এবং লজিস্টিক সাপোর্ট উপকমিটি।

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর এই কারিগরি সমন্বয় কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বুধবারের দ্বিতীয় সভায় প্রথম সভার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর আন্তঃযোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশদ আলোচনা হয়। সভায় জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের নির্ধারিত আলোচ্যসূচি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের জন্য প্রণীত খসড়া পজিশন পেপারের অগ্রগতি পরীক্ষা করা হয়। সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে খুব দ্রুত এই কৌশলপত্র চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষায় নীতিপত্র তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। বৈঠকে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম বা সিবিএএম, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দুর্যোগের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন কারিগরি প্রতিবেদন ও নীতিপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়েও কথা হয়। আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট, উন্নয়নশীল দেশ ও সমমনা রাষ্ট্রগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের অভিন্ন ভৌগোলিক ও পরিবেশগত স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘ সম্মেলনে যৌথ অবস্থান গ্রহণের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করছে ঢাকা।

সম্মেলনস্থলে স্থাপিত বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে দেশের জলবায়ু সহনশীলতার চিত্র তুলে ধরা হবে। সেখানে জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বা এনডিসি ৩.০, জাতীয় অভিযোজন রূপরেখা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সাফল্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে প্যাভিলিয়নের নকশা, ব্র্যান্ডিং, প্রদর্শনী সামগ্রী, সাইড ইভেন্টের সময়সূচি ও সার্বিক পরিচালনা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মূল আলোচনায় তরুণ ও নতুন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি প্রতিনিধিদলের নিবন্ধন, ভিসা, আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও আবাসনের মতো লজিস্টিক বিষয়গুলো সুসংহত করার তাগিদ দিয়ে সভা শেষ হয়।