এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন খামারে বর্তমানে মোট ৯৫ হাজার ৪৩৬টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় পশুর স্থানীয় চাহিদা ধরা হয়েছে ৭৮ হাজার ৪৪৩টি। সেই হিসেবে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর ১৬ হাজার ৩৯৩টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
জেলার অন্যতম আলোচিত খামার ঠাকুরগাঁও রোডের কালিতলা এলাকার বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম। এই খামারে বর্তমানে ১৮৬০ কেজি ওজনের ‘রাজাবাবু’ এবং ১৭৪০ কেজি ওজনের ‘কালাবাবু’ নামের দুটি বিশাল গরু রয়েছে। গরু দুটি ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। একই খামারে আরও শতাধিক গরু লালন-পালন করা হচ্ছে।
২০০৩ সালে মাত্র আটটি গরু নিয়ে এই খামারটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের তিন শতাধিক গরু রয়েছে। খামারে থাকা গরুগুলোর ওজন ২৩০ কেজি থেকে শুরু করে ১৮৬০ কেজি পর্যন্ত।
খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গরু মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের কৃত্রিম ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করা হয় না। খামারের পাশেই ঘাস চাষ এবং দেশীয় খাবারের মাধ্যমে গরুর পুষ্টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্মের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমন বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে গরু লালন-পালন করায় ক্রেতাদের আস্থা বাড়ছে। তবে অবৈধভাবে পশু আমদানি বন্ধ থাকলে খামারিরা লাভবান হতে পারবেন। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। এ ধরনের খামারগুলো শুধু কোরবানির পশু সরবরাহই করছে না, স্থানীয়ভাবে বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছে।
খামারে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, নিয়মিত আয়ের পাশাপাশি পরিবারের কাছাকাছি থেকে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। প্রাকৃতিক উপায়ে পশু পালন সহজতর হওয়ায় খামারগুলোতে কাজের পরিবেশও ভালো থাকছে।
ঠাকুরগাঁও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান বলেন, খামারভিত্তিক পশু পালন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং খামারিদের সচেতনতার কারণে এ বছর পশু উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না। বরং উদ্বৃত্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন