সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে দুপুরের মিড ডে মিলে দেওয়া প্যাকেটজাত তরল দুধ পান করে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মধুপুর এক নম্বর, মধ্য গোয়ালকারী ও তুলশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিশুদের পেটে ব্যথা ও বমির উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মধুপুর এক নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জন রয়েছে। বাকিদের মধ্যে মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন এবং তুলশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দুধের স্বাদ অস্বাভাবিক তিতা ছিল এবং তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। মধুপুর এক নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানায়, দুধ পানের কিছুক্ষণের মধ্যে কয়েকজনের তীব্র পেটে ব্যথা শুরু হয় এবং সহপাঠীরা শ্রেণিকক্ষেই বমি করতে থাকে। স্বাদ তিতা লাগায় শিক্ষকদের কাছে নালিশ করা হলেও তাদের জোর দিয়ে পুরো দুধ পান করতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ এই শিক্ষার্থীর। চতুর্থ শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী শামীম হাসান জানায়, প্যাকেট কাটার পর দুধ পান করতেই পেটে মোচড় দিয়ে বমি বমি ভাব শুরু হয়।
মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিকা দেবনাথের বাবা মানিক দেবনাথ জানান, স্কুল থেকে পেটে ব্যথা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর অবস্থার অবনতি হলে মেয়েকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করান তিনি। প্যাকেটজাত খাবার বিতরণের আগে শিক্ষকরা সেটির মান বা মেয়াদ যাচাই করেছিলেন কি না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। ঘটনার সময় ছুটিতে দিনাজপুরের পথে ছিলেন বলে জানিয়েছেন মধুপুর এক নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহিল সাফি। হাসপাতালে এসে তিনি জানান, বিদ্যালয়ে তখন সহকারী শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম দায়িত্বে ছিলেন। দুধ প্যাকেটজাত এবং মুখবন্ধ থাকায় আগে থেকে ভেতরের কোনো ত্রুটি বা পরিবর্তন বোঝার উপায় ছিল না বলে দাবি তার।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাক্তার নিশাত রায় জানান, বিকেল তিনটা পর্যন্ত ৩৪ জন শিশুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে খাদ্যজনিত বিষক্রিয়ায় অসুস্থতার আশঙ্কা করা হলেও পরীক্ষার আগে দুধই একমাত্র কারণ কি না তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সব শিক্ষার্থী বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বুলবুল ইসলাম এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় জানান, শিশুদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং অসুস্থতার সঠিক উৎস অনুসন্ধানে কাজ চলছে। অবশিষ্ট সব প্যাকেটজাত দুধ ও খাদ্যসামগ্রী অবিলম্বে জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস। তিনি জানান, জব্দকৃত নমুনা পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে এবং ফলাফল আসার পরেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্যাকেটজাত দুধ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় সরবরাহকারী আবু রিয়াল জানান, ঘটনার আগের দিন নিয়ম মেনে সব প্রতিষ্ঠানে দুধ পাঠানো হয়েছিল এবং অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে এমন সমস্যা হয়নি। কেবল এই তিনটি প্রতিষ্ঠানে কেন এমন ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন