সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
বিচার দাবিতে ক্ষোভ

খুলনায় আজমুল হত্যা: জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অবরোধ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

খুলনায় আজমুল হত্যা: জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অবরোধ

খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে সোনাডাঙ্গা এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আগামী ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ স্থগিত করা হয়। এরপর দুপুরের পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

হত্যাকাণ্ডের ৬০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সহপাঠী ও শিক্ষকরা। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজমুল হত্যার প্রতিবাদে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও তাদের এই কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করেন। অবরোধের ফলে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটের সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় সাধারণ যাত্রীরা দীর্ঘ ভোগান্তির মুখে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুর একটার দিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সামান্য এক প্লেট ভাত খাওয়ার অভিযোগ এনে একজন তরুণ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা উল্লেখ করেন, এটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং মেস জীবনে থাকা শিক্ষার্থীদের চরম নিরাপত্তাহীনতার প্রকাশ্য দৃষ্টান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ঘটনার আড়াই দিন পার হলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এজাহারভুক্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তুচ্ছ কারণে বিচারবহির্ভূতভাবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তারা দ্রুত সব আসামিকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল বলেন, ঘটনার মূল চিত্র অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে। ভাত চুরির সম্পূর্ণ মিথ্যা ও তুচ্ছ অভিযোগে তাকে দলবদ্ধভাবে বেধড়ক প্রহার করা হয় এবং এরপর তাকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়, বরং বহু শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে দলগতভাবে চালানো সহিংসতা। ঘটনাস্থলে তার মাথার কিছু চুল পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং মরদেহের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্নগুলো সাক্ষ্য দেয় যে তাকে বর্বর নির্যাতন করা হয়েছে। এই অমানবিক নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের দাবি জানান।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে জানান, আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল মাঠে অভিযান পরিচালনা করছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে আদালতে মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

প্রশাসনের এই সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম নির্ধারণ করে দুপুর দেড়টার দিকে তাদের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলি এলাকার একটি মেসে খাবার খাওয়ার জেরে আজমুলকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়। সেই সময় অভিযুক্তরা তার বাবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে একই দিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ করে ঘটনার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।