শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
সাপে কাটা রোগী

মেয়েকে সাপে কাটায় জীবন্ত সাপসহ হাসপাতালে গেলেন বাবা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

মেয়েকে সাপে কাটায় জীবন্ত সাপসহ হাসপাতালে গেলেন বাবা

মেয়েকে সাপে কাটার পর প্রচলিত কুসংস্কার বা ওঝার পেছনে সময় নষ্ট না করে সরাসরি হাসপাতালে ছুটে গেছেন এক সচেতন বাবা। চিকিৎসার সুবিধার্থে এবং সাপের প্রজাতি নিশ্চিত করতে তিনি দংশন করা জীবন্ত সাপটিকে কৌশলে ধরে ব্যাগে ভরে সাথে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে হাজির হন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শেরপুর জেলার নকলা পৌর শহরের দড়িপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে দড়িপাড়া গ্রামের আকাব্বর আলীর ২০ বছর বয়সী মেয়ে রিয়া মনি নিজ বাড়িতে অসাবধানতাবশত সাপের দংশনের শিকার হন। ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত না হয়ে বাবা আকাব্বর আলী উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন। তিনি দ্রুত সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় ধরে একটি ব্যাগে আটকে ফেলেন। এরপর কোনো ধরনের কবিরাজি চিকিৎসার অপেক্ষা না করে সাপসহ মেয়েকে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান।

মেয়ের জীবন বাঁচাতে জীবন্ত সাপসহ হাসপাতালে আসার দৃশ্য দেখে হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে রিয়া মনি তীব্র মানসিক আতঙ্কে ভেঙে পড়েন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা চলার পাশাপাশি সাপের ধরন নিশ্চিত করা হয়। পরে উন্নত পর্যবেক্ষণ ও মানসিক ধাক্কা সামাল দিতে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গ্রামাঞ্চলে সচেতনতার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বন্যপ্রাণী ও সাপ উদ্ধারকর্মী কাঞ্চন মিস্টার মারাক। তিনি জানান, বর্ষা পরবর্তী এবং বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে অনেক সাপ শুকনো জায়গার খোঁজে ঘরের ভেতর আশ্রয় নেয়। এতে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, আহত তরুণীর পরিবার অত্যন্ত সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে। তারা সনাতন কবিরাজ বা ওঝার কাছে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট না করে দ্রুত আধুনিক চিকিৎসার শরণাপন্ন হয়েছেন।হাসপাতালের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।

তিনি নিশ্চিত করেন, হাসপাতালে নিয়ে আসা সাপটি এবং রোগীর শারীরিক লক্ষণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সাপটি বিষধর ছিল না। তবে দংশনের শিকার তরুণী মানসিকভাবে অতিরিক্ত ভেঙে পড়ায় এবং সার্বিক শারীরিক পর্যবেক্ষণের স্বার্থে স্বজনেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।