মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সুগন্ধা নদীর ভাঙন: ঝুঁকিতে বাবুগঞ্জ বাজার ও বিমানবন্দর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১১:১৩ এএম

সুগন্ধা নদীর ভাঙন: ঝুঁকিতে বাবুগঞ্জ বাজার ও বিমানবন্দর

সুগন্ধা নদীর তীব্র ভাঙনে বরিশালের বাবুগঞ্জে বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলীন হচ্ছে। উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন এলাকায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে নদীগর্ভে চলে গেছে পুরোনো মসজিদ, দুটি ঘর, দুটি দোকান এবং খেয়াঘাটের গণশৌচাগার। ভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো বাবুগঞ্জ বাজার ও বরিশাল বিমানবন্দর এখন চরম ঝুঁকিতে।

নদীর কিনারা থেকে মাত্র চারশ থেকে পাঁচশ ফুট দূরে অবস্থান করছে বিমানবন্দরটির সীমানাপ্রাচীর। পশ্চিম ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামে গত বছর নদীগর্ভে যাওয়া পুরোনো মসজিদের জায়গায় নতুন একটি মসজিদ তোলা হয়েছিল, যা এখন ভাঙনকবলিত। বাঁশের চাটাই আর পাইলিং দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সেটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। দিনমজুর সরোয়ার হোসেন ও সুমি বেগম দম্পতি নিজেদের রান্নাঘর হারিয়ে এখন বসতঘরের বারান্দা খুলে অন্যের বাড়িতে সরিয়ে নিয়েছেন। নদীপাড়েই নতুন মাটির চুলায় ভাত বসিয়ে গৃহিণী সুমি জানান, এ নিয়ে পাঁচবার নদী তাদের আশ্রয় কেড়ে নিয়েছে এবং বারবার ঘর সরাতে সরাতে তারা এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব। পরিবারের শিশুদের নিয়ে রাতে না ঘুমিয়ে ভাঙনের শব্দে দিন পার করতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাড়ের বিশালাকার মাটির খণ্ড একটানা নদীতে ভেঙে পড়ছে। অনেকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও দোকানের শেষ সম্বল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভাঙনের কবলে পড়েছে খেয়াঘাটের সংযোগ সড়ক এবং ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ভাসমান পন্টুন। স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার জানান, ইতিমধ্যে গ্রামের শতাধিক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে এবং জরুরি টেকসই বাঁধ না দিলে রানওয়ে ও নিরাপত্তা দেয়ালও রক্ষা পাবে না।

গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিও ব্যাগের সিংহভাগ এবারের বন্যায় ভেসে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী বিপ্লব মিস্ত্রি এবং সমাজসেবক মোয়াজ্জেম বিশ্বাস জানান, ভাঙনের বর্তমান তীব্রতা বাবুগঞ্জ বাজারের পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা তৈরি না হলে বাজারসংলগ্ন কয়েকটি মসজিদ, বাবুগঞ্জ থানা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা জানান, উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন ছড়িয়ে পড়েছে এবং সংকট মোকাবিলায় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানান, বাবুগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকার বাম তীরে নদীর ভাঙন মারাত্মক রূপ নিয়েছে। এই সংকট সমাধানে নদীটির বাম তীরের প্রায় তিন হাজার ৬২৬ মিটার এলাকায় কংক্রিট ব্লক বসিয়ে স্থায়ী প্রতিরক্ষার নকশা তৈরি হয়েছে। সমীক্ষা শেষে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ পেয়ে এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসেই প্রকল্পটি পাস হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় থেকে বাড়তি বরাদ্দ পেলে দ্রুত জরুরি প্রতিরক্ষার কাজ শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্থানীয়রা চান, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পটির অনুমোদন হতে হতে যেন বালুর বস্তা ফেলে চলমান ধ্বংস ঠেকানো হয়।