সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫, ১১:৩৭ এএম
ফরিদপুরে একই নম্বর প্লেটযুক্ত পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি আটকের ঘটনায় সারাদেশে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ প্রতারণা চক্রের নাম, যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের আড়ালে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। ‘পাওয়ার ফাইভ গ্রুপ’ নামের এই চক্রটি অনলাইন জুয়া, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত।
এক সাবেক ক্যাসিনো এজেন্টের দাবি অনুযায়ী, এই চক্রটি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও কম্বোডিয়ায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি পাচার করেছে। ফরিদপুরে আটক ২৬ জন এই চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত মালিকদের মধ্যে রয়েছেন মেহেরপুরের মারুফ হোসেন পনির ও তুলিপ, হবিগঞ্জের মেহেদী, সাভারের হাসিব এবং ঢাকার জয়নাল আবেদীন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত পনির মাত্র চার বছরে কোটি টাকার ভবন ও একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। একইভাবে, তুলিপও দৃশ্যমান কোনো পেশা ছাড়াই বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। তাদের হঠাৎ এই উত্থান স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
এই চক্র প্রায় ৩০ হাজার ভুয়া মার্কিন আইডি কার্ড ব্যবহার করে অনলাইন বেটিং প্রমোশন চালায়। তারা নিজেদের ডেভলপার ফার্মের মাধ্যমে বেটিং অ্যাপসও চালু করেছে। তাদের নিজস্ব বটভিত্তিক পেমেন্ট গেটওয়ে রয়েছে, যা ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা এখন টেলিগ্রাম আইডি পরিবর্তন করে ফ্রিল্যান্সার গ্রুপগুলোতে যুক্ত হচ্ছে।
এই বিষয়ে সিআইডির একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত সকল সিম তাদের নজরদারিতে রয়েছে। তিনি বলেন, “এআই বটভিত্তিক লেনদেনের কারণে অনেককে শনাক্ত করা কঠিন হলেও প্রতিটি কার্যক্রম সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
এদিকে, ফরিদপুর ও মেহেরপুর পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গাড়ি জব্দ করার পর থেকে অভিযুক্ত পনির ও তুলিপ পলাতক রয়েছেন এবং তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন