অক্টোবর ২, ২০২৫, ০৬:৩২ পিএম
দেশের ইমামদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ভাতার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় ইমাম পরিষদ। এই দাবির পেছনে তাদের যুক্তি পরিষ্কার: ইমামদের যদি আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকে, তবে তাঁরা সমাজের নেতা হিসেবে স্বীকৃত হবেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর গোলাম নন।বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় ইমাম পরিষদের উদ্যোগে "কল্যাণময় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইমামদের ভূমিকা" শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এই দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, একটি আদর্শ সমাজ ও কল্যাণময় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইমামদের ভূমিকা আসলে অপরিহার্য। দেশ ও জনগণের কল্যাণে ইমাম সমাজ যে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।এখানে একটা বিষয় বুঝতে হবে: ইমাম ও খতিবগণ জুমার খুতবায় কেবল নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত সম্পর্কে আলোচনা করেন না, বরং সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তাঁরা সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি সামাজিক অপরাধ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলেন।তাঁরা ধর্মীয় ও নৈতিক বিষয়ে নির্দেশনা দেন, সমাজে বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরে কোরআন-হাদিসের আলোকে এর সমাধান তুলে ধরেনমুসল্লিদের হালাল-হারাম ও আখেরাতের কথা বলে মানুষকে অপরাধ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন।
এছাড়াও মাদকাসক্তি দূর, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূলে তাঁরা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। এমনকি সমাজ থেকে নিরক্ষরতা দূর করতে প্রায় প্রতিটি মসজিদে সকালের মক্তব পরিচালনা করেন ইমামগণ।জাতীয় ইমাম পরিষদের সভাপতি মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়ার সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মুফতি আ ফ ম আকরাম হোসাইনের সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাশেমী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব মো. আব্দুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন