অলিউর রহমান মিরাজ
ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০২:২৩ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন যুগের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শণগুলো সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে বিলীনের পথে। মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা অসংখ্য ঢিবি ও স্থাপত্যগুলো উদ্ধার করা গেলে নবাবগঞ্জ হতে পারত দেশের অন্যতম প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটন কেন্দ্র।
ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ঢিবির বর্তমান অবস্থা: উপজেলার উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলোর মধ্যে গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের সীতাকোট বৌদ্ধ বিহার।
মাহমুদপুর ইউনিয়নের অরুনধাপ (বেহুলার বাসর ঘর ঢিবি), হরিনাথপুর দুর্গ, হলাইজানা তেলিপাড়া মসজিদ, জিগাগড় দুর্গ, দলার দরগা মঠ এবং নিম্ন পলাশবাড়ী মঠ অন্যতম।
প্রত্নতত্ত্ববিদ ও দিনাজপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আবুল কালাম মোঃ যাকারিয়া-এর মতে, সমগ্র এলাকাটি ছিল প্রাচীন একটি জনপদ ও বৌদ্ধ ধর্মীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে একাধিক বৌদ্ধ বিহার ও স্তূপ থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, ১৯৬০ সালের আগে মাহমুদপুর এলাকায় মোট ১০০টি ঢিবি থাকলেও বর্তমানে তার অর্ধেকের বেশি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
অরুনধাপ ও খয়েরগনি বৌদ্ধ বিহার: ১৯৮৫ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরীক্ষামূলক খননে অরুনধাপে বগুড়ার লখিন্দরের মেড় সদৃশ একটি পুরাকীর্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ২০০৬ সালে দাউদপুর ইউনিয়নের খয়েরগনি নামক স্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল খনন করে প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের অস্তিত্ব পায়। কিন্তু অর্থের অভাবে পূর্ণাঙ্গ খনন কাজ থমকে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই ইতিহাস বর্তমানে মাটির নিচেই পড়ে আছে।
পর্যটন ও ইতিহাস রক্ষার দাবি: স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। পাশাপাশি পর্যটকদের আগমনের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন সম্ভব। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তারাও মনে করেন, এসব স্থাপনা নিয়ে নতুন করে চর্চা ও বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।