রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
জাতিসংঘে তীব্র বিতর্ক

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে জাতিসংঘে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১১:২০ এএম

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে জাতিসংঘে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে জানিয়ে তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক করে তোলা বা এর দায়মুক্তি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

নিউইয়র্কের মঞ্চে দুই দেশের পুরোনো বিরোধ নতুন রূপ নিল।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভারতের জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেন এস জয়শঙ্কর। সেখানে তিনি বলেন, আগের দিন পাকিস্তানের একজন ধারাবাহিক সন্ত্রাসচর্চাকারী এই পরিষদের সামনে তথ্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন। সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং এর পরিণতি থেকে দায়মুক্তির দাবি তোলার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা সরকারগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি। বক্তব্যে তিনি সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখা নিয়েও পাকিস্তানের সমালোচনার জবাব দেন। জয়শঙ্কর বলেন, বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে একসঙ্গে চলতে পারে না। সন্ত্রাসের আবহে সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো সমঝোতাগুলো প্রশ্নের মুখে পড়া স্বাভাবিক।

এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। তিনি কাশ্মীরকে পাকিস্তানের জীবনধমনি হিসেবে উল্লেখ করেন। কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ভারতের ক্ষমতাসীন দল সংখ্যালঘুদের ওপর ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের মধ্যকার চার দিনের সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পাকিস্তান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছিল। ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়োপযোগী ভূমিকার প্রশংসাও করেন তিনি। সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন শাহবাজ শরীফ। তিনি বলেন, ভারত চুক্তিটি স্থগিত রেখে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। পাকিস্তানের প্রাপ্য পানি বন্ধ বা সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টাকে যুদ্ধের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হবে। চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

উভয় নেতার ভাষণের আগে থেকেই জাতিসংঘে দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় চলে। ভারতের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে প্রতিনিধি পেটাল গেহলট পাকিস্তানের সীমান্তপারের সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং কাশ্মীরের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। বিপরীতে পাকিস্তানি কূটনীতিক সাইমা সালিম কাশ্মীরের পরিস্থিতি ও সিন্ধু চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন।

ভাষণে শুধু দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর তৈরি হওয়া সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার ফলে জ্বালানি ও বাণিজ্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানান তিনি। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ, সার ও জ্বালানি সরবরাহে বিভিন্ন দেশকে ভারতের সহযোগিতার তথ্য তুলে ধরেন জয়শঙ্কর।