রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬,

জ্বালানি সংকটে বাইসাইকেলে রোগীর দ্বারে পল্লী চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

জ্বালানি সংকটে বাইসাইকেলে রোগীর দ্বারে পল্লী চিকিৎসক

সাইকেলে সেবা দিচ্ছেন জাহাঙ্গীর। ছবি-দিনাজপুর টিভি

সারাদেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পল্লী চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম। জ্বালানি সংকটে যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়লেও তিনি দমে যাননি। মোটরবাইকের পরিবর্তে বাইসাইকেলে চড়েই প্রত্যন্ত গ্রামের অসুস্থ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা।

উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেল চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামের সাধারণ মানুষ সময়মতো চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

 বিশেষ করে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে গ্রামে গ্রামে জ্বর ও সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাহাঙ্গীর আলম নিজের পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে বাইসাইকেলে করে রোগীদের বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি সংকটের ফলে প্রয়োজনীয় সময়ে যাতায়াতের বাহন না পাওয়ায় গ্রামের অনেক মানুষ সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এই সংকটময় সময়ে জাহাঙ্গীর আলমের এই উদ্যোগ তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন তিনি কয়েক কিলোমিটার মেঠোপথ পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে অসুস্থদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ওষুধ পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রশিদুল ইসলাম জানান, তিনি গত কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে ভালো কোনো চিকিৎসকের কাছে যেতে পারছিলেন না। মোটরসাইকেল না চলায় দ্রুত সময়ে পল্লী চিকিৎসকদেরও পাওয়া যাচ্ছিল না। এমন অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলম বাইসাইকেল নিয়ে তার বাড়িতে এসে চিকিৎসা দিয়ে গেছেন। সংকটের সময় এভাবে পাশে দাঁড়ানোকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে পল্লী চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষ খুবই কষ্টে আছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি অসহায় বোধ করছেন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঘরে বসে থাকা সম্ভব নয়। কষ্ট হলেও সাধ্যমতো রোগীদের পাশে থাকতে চান বলে জানান তিনি।

এলাকাবাসীর মতে, আধুনিক যুগে মোটরবাইক ছাড়া যাতায়াত কঠিন হলেও জাহাঙ্গীর আলম প্রমাণ করেছেন যে সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। পেশাগত দায়িত্ববোধের বাইরে গিয়ে তাঁর এই মানবিক প্রয়াস বর্তমান সংকটের মধ্যেও স্থানীয় সমাজে এক ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বীরগঞ্জের সাধারণ মানুষ জাহাঙ্গীর আলমের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।