রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬,

বীরগঞ্জে ৯ বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে পুনর্ভবা সেতু

মোঃ আরিফ ইসলাম

এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম

বীরগঞ্জে ৯ বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে পুনর্ভবা সেতু

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের সিংড়া ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মহানপুর সড়কে পুনর্ভবা নদীর ওপর নির্মিত একটি ছোট সেতু ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ নয় বছর কেটে গেলেও তা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে সেতুটি মেরামতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এলাকার অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৬ সালে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নির্মাণের পরের বছর ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় নদীর তীব্র স্রোতে সেতুর দুই পাশের মাটি ধসে পড়ে এবং এক পর্যায়ে পুরো কাঠামোটি ভেঙে যায়। 

এরপর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সেতুর দুই পাশে পাকা রাস্তা থাকলেও মাঝখানে ভাঙা অংশের কারণে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে কিছু মোটরসাইকেল চালক অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করলেও বর্ষা শুরু হলে পুরো এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই সেতুটি চালু থাকলে উপজেলা শহরে পৌঁছাতে যে সামান্য সময় লাগত, এখন সেতু না থাকায় বিকল্প পথে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুইয়েরই ব্যাপক অপচয় হচ্ছে।এই ভাঙা সেতুর কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। 

এলাকাটি সবজি উৎপাদনের জন্য বিশেষ পরিচিত হলেও সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে তাদের অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। কৃষক সমু মিয়া জানান, উৎপাদিত সবজি বাজারে নিতে এখন আগের চেয়ে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। ফলে লাভের বদলে অনেক সময় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষিকাজে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।শিক্ষার্থীরাও এই সংকটের বাইরে নয়। 

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে যাওয়া অনেকের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। অনেক শিক্ষার্থীকে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে স্কুল-কলেজে যেতে হয়, আবার অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতুর পাশ দিয়ে নদী পারাপারের চেষ্টা করে। এর ফলে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় শিক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন। সে জানায়, অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে পার হতে গিয়ে ভিজে কাপড়ে ক্লাসে বসতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর।

দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাহানপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই ছোট সেতুটি চালু হলে তাদের যাতায়াতের পথ অন্তত ১০ কিলোমিটার কমে যেত। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোপাল দেবশর্মা বলেন, একটি মাত্র সেতুর অভাবে পুরো এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম থমকে আছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সড়কটি ইতোমধ্যে উন্নয়ন করা হয়েছে এবং ভেঙে যাওয়া সেতুটিও পরিদর্শন করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেতুটি নতুনভাবে নির্মাণের পরিকল্পনা এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম জানান, বীরগঞ্জ উপজেলার সিংড়া-মাহানপুর সড়কের পুনর্ভবা নদীর ওপর ভেঙে যাওয়া সেতুটি দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এলাকার কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

নয় বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই অবহেলা শুধু জনদুর্ভোগই বাড়াবে না, বরং এলাকার সামগ্রিক অর্থনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অবিলম্বে নতুন সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।