শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬,

দিনাজপুর-ঢাকা রুটে নতুন রেলপথ নির্মাণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

দিনাজপুর-ঢাকা রুটে নতুন রেলপথ নির্মাণ

উত্তরবঙ্গের ট্রেন ভ্রমণ ও যাতায়াতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে ৩১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা ও মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারীসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের মানুষের রাজধানী যাতায়াত আরও সহজ হবে।

পাশাপাশি হিলি স্থলবন্দরের বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হওয়াসহ স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। রেলপথের দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমার ফলে মাত্র ৫ ঘণ্টায় দিনাজপুর পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনাজপুর পার্বতীপুর রেলওয়ে বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ হাসানুজ্জামান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ১৩ অক্টোবর দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত লোকোমোটিভ রেল কারখানা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় রেল বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। রেল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিনাজপুর-ঢাকা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন রেলপথ স্থাপনের জন্য প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে রেল কর্মকর্তা শেখ হাসানুজ্জামান বলেন, দেশের রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে ৮০টি লোকোমোটিভ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩০টি লোকোমোটিভ ক্রয়ের প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে অনুমোদিত হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এসব লোকোমোটিভ ক্রয় করা হবে এবং এগুলো দেশে পৌঁছাতে আরও দুই বছর সময় লাগতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণকে যমুনা সেতু পার হয়ে হাটিকুমরুল, এলেঙ্গা কিংবা বগুড়া শহরের সরু রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হতো। এ ছাড়া ট্রেনের যাত্রীদের সান্তাহার ও ঈশ্বরদী হয়ে শত কিলোমিটার ঘুরে ঢাকায় যাতায়াত করতে হতো। সেই অবর্ণনীয় ভোগান্তি দূর করতে সড়ক ও রেল যোগাযোগে মন্ত্রণালয় এই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি ডুয়েল গেজ রেলওয়ের কর্ড লাইন পথ। এতে ব্যয় হচ্ছে ১২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ট্রেনের দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমবে, যার ফলে সান্তাহার ও ঈশ্বরদী যাতায়াতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় বাঁচবে।

একই সঙ্গে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়কে ১৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯০ কিলোমিটার মহাসড়কের নির্মাণকাজের ৯৫ শতাংশেরও বেশি সম্পন্ন হয়েছে। এতে সার্ভিস লেনসহ ছয় লেনের সুবিধা, নয়টি ফ্লাইওভার ও ২২টি ওভারপাস থাকছে। সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরুলের ৭৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এই মহাসড়ক চালু হলে উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার যানবাহন কোনো সিগন্যাল ছাড়াই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বাসসকে জানান, দিনাজপুর-ঢাকা রেল বিভাগের রেলপথ উন্নয়নের পাশাপাশি শহরের ভেতরে চার লেন ও শহরকেন্দ্রিক যানজট দূর করতে খুব শিগগির কাজ শুরু হবে। দিনাজপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও সংযোগ সড়কগুলোকে চার লেনে রূপান্তরের কাজও দ্রুত শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, হিলি স্থলপোর্টের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং দিনাজপুরের বিখ্যাত কাটারিভোগ চাল, লিচু ও আলু মাত্র কয়েক ঘণ্টায় দ্রুতগামী ট্রেনযোগে রাজধানীতে পৌঁছে যাবে। বর্তমান সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগ উত্তরাঞ্চলের জনগণের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।