শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬,
মানবপাচারবিরোধী অভিযান

টেকনাফের পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে নতুন মোড়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০১:০০ পিএম

টেকনাফের পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে নতুন মোড়

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা-রঙ্গীখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মানবপাচারকারীদের আস্তানা ধ্বংস করতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে পরিচালিত এই অভিযানে সেনাসদস্যদের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্য।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গোপন বন্দিশালা থেকে ৫৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। উক্ত অভিযানে মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়। তবে অভিযান চলাকালে সশস্ত্র পাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ। পরবর্তীতে ২৭ বছর বয়সী এই সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফরিদপুরের नगरকান্দায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তিতাস শেখের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর ওই দুর্গম পাহাড়ে আরও তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার নতুন তথ্য সামনে আসে। বন্দিদশা থেকে উদ্ধার হওয়া শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি জানান, দুপক্ষের তীব্র গোলাগুলির ঘটনায় একাধিক পাচারকারী নিহত হয়ে থাকার কথা তিনি শুনেছেন। একই সঙ্গে বন্দিশালার খুব কাছে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখার কথাও দাবি করেন তিনি।

তবে পড়ে থাকা মরদেহগুলো পাচারকারী চক্রের সদস্যদের নাকি কোনো ভুক্তভোগীর, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, রঙ্গীখালীর পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও সেগুলো এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে নিশ্চিত পরিচয় পেতে পুলিশ অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, ভাল চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কক্সবাজারে আনা হতো। আসাদুজ্জামান নামের এক ভুক্তভোগী জানান, তাকে আটকে রেখে আট দিন ধরে নির্যাতন চালানো হয়। আটকে রাখা ৫০ জনের বেশি মানুষকে সাগরপথে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল এবং আস্তানাটি আগ্নেয়াস্ত্রধারী ব্যক্তিরা পাহারা দিত।

শুক্রবার উদ্ধার হওয়া ৫৭ জনের মধ্যে ৫১ জন বাংলাদেশি এবং ছয়জন রোহিঙ্গা নাগরিককে টেকনাফ মডেল থানা প্রাঙ্গণ থেকে পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান স্পষ্ট করেছেন, পাহাড়ের এই বিপজ্জনক মানবপাচার নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ উৎখাত না হওয়া পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।