নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:২২ পিএম
গত ম্যাচের বাজে আউটটা নিশ্চিতভাবেই পুড়িয়েছিল তাওহীদ হৃদয়কে। তবে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে দলের চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তে ব্যাট হাতে একাই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই তরুণ ব্যাটার। তুলে নিয়েছেন চমৎকার এক সেঞ্চুরি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের পথে একমাত্র প্রধান বাধা হয়ে উইকেটে এখনো অপরাজিত রয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের মধ্যাহ্নবিরতি পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে সাত উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহের চেয়ে টাইগাররা এখনো ১৫১ রানে পিছিয়ে রয়েছে। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত থেকে লাঞ্চে গিয়েছেন হৃদয়।
তিন ম্যাচের ছোট টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাওহীদ হৃদয়ের প্রথম সেঞ্চুরি।
একশত একাশি বল মোকাবেলা করে দারুণ এই শতকটি সম্পন্ন করেন তিনি। তার এই ইনিংসটিতে ছিল ১১টি চোখধাঁধানো চারের মার এবং একটি ছক্কা।
তিন উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে রোববার দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম সাতটি ওভার কোনো বিপদ ছাড়াই কাটিয়ে দিয়েছিলেন ব্যাটাররা। রানের গতিও ছিল বেশ ভালো। দিনের প্রথম সাত ওভারে বাংলাদেশের ঝুলিতে জমা হয় ৩৩ রান। কিন্তু অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে আবার ছন্দপতন ঘটে।
জোমেল ওয়ারিক্যানের হাওয়ায় ভাসানো বলে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে শর্ট কাভারে সহজ ক্যাচ তুলে দেন মুশফিক। ৩৪ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
মুশফিকের মতোই প্রায় একই ধরনের শট খেলে আউট হয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস। ওয়ারিক্যানের ধীরগতির বলে আক্রমণাত্মক ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে দাঁড়ানো ব্র্যান্ডন কিংয়ের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন তিনি। লিটন আউট হন মাত্র আট রান করে।
লিটনের বিদায়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে জুটি বেঁধে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন হৃদয়। দুজনে মিলে গড়েন ৪১ রানের কার্যকর জুটি। বেশ সাবলীলভাবেই ব্যাট করছিলেন মিরাজ, তবে অপ্রয়োজনীয় সুইপ খেলতে গিয়েই তিনি নিজের উইকেটটি হারান।
অবশ্য মিরাজের ক্যাচটি নেওয়ার ক্ষেত্রে ফিল্ডার জাস্টিন গ্রিভসের কৃতিত্ব ছিল লক্ষণীয়। রোস্টন চেজের বলে মিরাজ আগেই প্যাডেল সুইপ খেলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, কিন্তু বলটি মাটিতে নামাতে পারেননি। প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিভস আগে থেকেই তা অনুধাবন করে দ্রত পাশের দিকে সরে গিয়ে চমৎকার একটি ডাইভিং ক্যাচ নেন।
এরপর বল হাতে দ্যুতি ছড়ানো পেসার হাসান মাহমুদ ব্যাট হাতে বেশি দূর যেতে পারেননি, করতে পেরেছেন মাত্র এক রান। লাঞ্চের বিরতি পর্যন্ত তাওহীদ হৃদয়ের সাথে এক রানে অপরাজিত আছেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন