নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে জন্য ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল মূলত শত্রু ও মিত্র চেনার দিন। তিনি তিনটি ঐতিহাসিক ঘটনার তুলনা টেনে বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার রক্ষা করেছে, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ছিল সেই অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ৭ নভেম্বরের প্রকৃত নায়ক ছিলেন এ দেশের দেশপ্রেমিক সিপাহি ও সাধারণ জনতা।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ও অস্ত্র হাতে রণাঙ্গনে দেশের পক্ষে সরাসরি লড়াই করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, যারা বাংলাদেশকে অন্য কোনো শক্তির ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহ্য ও গৌরব নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে মেতেছিল, দেশের সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়েছিল।
তবে সেই দেশবিরোধী চক্রান্ত থেমে থাকেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে পিলখানায় নারকীয় সেনা হত্যাকাণ্ড এবং দেশে দীর্ঘমেয়াদি ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার মতো ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
বক্তব্যের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও বিশেষ প্রদর্শনী উপভোগ করেন। এই সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন