নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক দখলদার হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে কৌশলগতভাবে চরম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ন্যাশনাল অ্যারোনটিকস অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা নাসার একটি প্রযুক্তি কেন্দ্র পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান সশস্ত্র সংঘাতের সাথে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, গত অক্টোবর মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার সরাসরি লড়াইয়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
মস্কো ও কিয়েভের মধ্যকার সেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, সেটাকেই মূলত প্রকৃত যুদ্ধ বলা চলে।
অন্যদিকে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান দ্বিপক্ষীয় সামরিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা যায় না বলে মত দেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে সেই অঞ্চলে তাদের বাহিনীর কেউ আঘাতপ্রাপ্ত বা আহতও হননি।
নিজের সরকারের কৌশলগত সামরিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তারা সেখানে যা পরিচালনা করছেন তা হয়তো এক ধরনের সামরিক দখলদারিত্ব এবং মার্কিন বাহিনী দীর্ঘ মেয়াদেও সেখানে দখলদার হিসেবে অবস্থান করতে পারে।
কৌশলগত হরমুজ প্রণালির বর্তমান সামরিক কর্তৃত্ব নিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি এখন পুরোপুরি তাদের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমনকি নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অপরিশোধিত খনিজ তেল তারা এখন এই অঞ্চল থেকেই উত্তোলন করছেন বলে দাবি তার।
এর আগে শুক্রবারের ঘটনায় ইরানের কৌশলগত কেশম দ্বীপের কাছে সাম্প্রতিক সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা চালানো সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক পর্যায়ে মন্তব্য করতে অপছন্দ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তবে পরবর্তীতে সেই দ্বীপে সীমিত পরিসরে একটি সামরিক অভিযান চালানোর তথ্য স্বীকার করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি এসব সামরিক বিষয় নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা পছন্দ করেন না, তবে তারা সেখানে অত্যন্ত ছোটখাটো ও নির্দিষ্ট একটি বিমান হামলা চালিয়েছেন।
তিনি বিস্তারিত দাবি করে বলেন, ইরানি সামরিক বাহিনী সেখানে একটি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স নির্মাণ করেছিল, যা মার্কিন বাহিনী মাত্র কয়েক মিনিটের অভিযানের মাধ্যমে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
কয়েক দিন আগে কেশম দ্বীপের সুনির্দিষ্ট এক বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনায় মার্কিন হামলার তথ্য স্বীকার করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ওই পদক্ষেপ কোনো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার পদক্ষেপ নয় বরং এটি একটি সীমিত হামলা ছিল।
তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্রের যাবতীয় দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই কৌশলগত প্রণালির সার্বিক পর্যবেক্ষণ ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ এখনো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতেই রয়েছে। নিজেদের নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জলপথটি উন্মুক্ত করা হবে না বলেও জানিয়েছে তারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন