নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১১:০৫ এএম
স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিনটি ছিল ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে এই তারিখটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে অত্যন্ত উজ্জ্বল ও ভাস্বর হয়ে আছে।
৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতির সঠিক স্বরূপ এবং অনিবার্যতা বুঝতে হলে এর পটভূমি জানা প্রয়োজন। এর জন্য আমাদের ফিরে তাকাতে হবে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সুদীর্ঘ সংগ্রাম এবং চূড়ান্ত পরিণতিতে সংঘটিত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের দিকে। আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম ছিল এক সুদীর্ঘ ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা ধাপে ধাপে সামনে এগিয়েছিল। ইতিহাসের নানা বাঁকে সেই প্রক্রিয়া থেকে অনেকে ছিটকে পড়েছেন, আবার কেউ কেউ করেছেন বিশ্বাসভঙ্গ। একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ও অবসানের সময়েও এর সাথে জনগণের নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ফলে সূচনায় মুক্তিযুদ্ধ নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।
আবার শেষ মুহূর্তে এসেও নেতৃত্বের পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে আমাদের জাতীয় মুক্তিযুদ্ধকে থমকে দিয়ে ভারতের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজয়ের গৌরব। রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা একটি প্রতিবেশী দেশের দয়ার দান হিসেবে পরিগণিত হতে থাকে। অথচ এই মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অগণিত মানুষ জীবন দিয়েছে, যুদ্ধে পঙ্গু হয়েছে, কোটি কোটি মানুষ সহ্য করেছে অবর্ণনীয় নির্যাতন এবং অসংখ্য নারী হারিয়েছে সম্ভ্রম।
তাদের সীমাহীন ত্যাগ ও বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধে ভারত সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। ভারতের সাথে গোপন এক অধীনতামূলক মিত্রতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে সেদিনের প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার তথাকথিত যৌথকমান্ডের নামে মুক্তিবাহিনীকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমান্ডের আওতায় ন্যস্ত করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর বাংলাদেশের সামরিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ মূলত ভারতের কর্তৃত্বে চলে যায়।
তারপর প্রবাসী সরকারকে ঢাকায় এনে ক্ষমতায় বসানো হলেও তাদের কার্যকলাপ তদারকির জন্য ওপর থেকে বসিয়ে দেওয়া হয় ভারতীয় উপদেষ্টাদের। নয় মাস যুদ্ধ করে ১৯৭১ সালের শেষ প্রান্তে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হলেও এই রাষ্ট্রটির সত্যিকার অর্থে কোনো সার্বভৌমত্ব ছিল না। ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা প্রকাশ্যেই ঢাকার মাটিতে দাঁড়িয়ে বলতেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় স্বার্থ সবকিছুই হবে তাদের স্বার্থের পরিপূরক। কিন্তু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষ লড়েছিল একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র কায়েমের জন্য, অন্য কোনো দেশের স্বার্থের পরিপূরক ভূমি গড়ার জন্য নয়।
বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সোভিয়েত-ভারত অক্ষবলয়ে প্রবেশ করেছিল। তবে মার্কিন প্রশাসন বিশ্বাস করত, শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ পরিপন্থী কিছু করবেন না।
পাকিস্তানিরাও পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আশা করতে থাকে যে, দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মধ্যে কনফেডারেশন ধরনের একটি বন্ধন গড়ে তোলার ব্যাপারে শেখ মুজিব উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে পারবেন। এসব প্রস্তাবে সম্মত হয়েই শেখ মুজিব স্বদেশে ফেরেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি স্বভাবসুলভ কায়দায় স্বাধীনতার দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সাফল্যের সব কৃতিত্ব একা আত্মস্থ করার চেষ্টা করেন। তবে রুশ-ভারত বলয় থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে তিনি চাতুর্যের সাথে কিছু পদক্ষেপ নিতে থাকেন।
তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে তিনি সরকারপদ্ধতি বদল করে নিজেই প্রধানমন্ত্রী হন। কিছুদিনের মধ্যেই তাজউদ্দীনকে তিনি মন্ত্রিসভা থেকেও বাদ দিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমদ ও অন্যান্য মার্কিনপন্থীদের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন। বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের জন্যও তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে অনুরোধ করেন এবং সফল হন। কারণ সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং জাতিসংঘ বাংলাদেশে ভারতীয় সেনাউপস্থিতির বিরোধিতা করছিল। শেখ মুজিব পাকিস্তান সফরে যান ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে এবং পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীকেও ঢাকায় স্বাগত জানান। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে তিনি গোপনে প্রক্রিয়া শুরু করেন। একই সাথে তিনি পাকিস্তানি সামরিক সদস্যদের বিচারের দাবি ত্যাগ করেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের জন্য ঘোষণা করেন সাধারণ ক্ষমা।
এগুলো সবই ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেওয়া বিভিন্ন অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পদক্ষেপ। কিন্তু বেশি দূর এগোনো সম্ভব ছিল না। কারণ সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ তখন রুশ-ভারত প্রভাব বলয়ে গভীরভাবে আবদ্ধ ছিল। ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো তখন ভারতপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফলে শেখ মুজিব তাদের কাছে রূপকভাবে আত্মসমর্পিত হতে বাধ্য হন। তিনি তার পূর্বের অনেক ওয়াদা ভঙ্গ করেন এবং নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে সমাজতন্ত্রের নীতি গ্রহণ করেন। অন্যদিকে ভারতীয় গোষ্ঠী তাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করত না, কারণ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার বরণসহ তার কিছু কর্মকাণ্ডে তারা ক্ষুব্ধ ছিল। একই সাথে তিনি মার্কিন প্রশাসনেরও আস্থা হারান। সাধারণ মানুষের আস্থা তিনি আগেই হারিয়েছিলেন; শাসকদলের অযোগ্যতা, লুণ্ঠন ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ফলে শেখ মুজিব পুনরায় তৎকালীন সোভিয়েত বলয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
সমাজতন্ত্র কায়েমের কথা বলে বাকশালী স্বৈরশাসন কায়েম করা হয়, যেখানে মৌলিক মানবিক অধিকার, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়। চারটি দৈনিক সংবাদপত্র সরকারি নিয়ন্ত্রণে রেখে বাকি সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। সব রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও পেশাজীবীদের একমাত্র রাজনৈতিক দল বাকশালে যোগদান বাধ্যতামূলক করা হয়। নির্বাচন ছাড়াই সংসদ ও সরকারের মেয়াদ তিন বছরের জন্য বাড়িয়ে নেওয়া হয় এবং মধ্যযুগীয় রাজতন্ত্রের ধাঁচে একটি সর্বময় প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হয়।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর সমান্তরাল হিসেবে প্রভূত ক্ষমতা দিয়ে জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। এ কারণে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছিলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতিতে সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সরকার পরিবর্তনের নিয়মতান্ত্রিক রাস্তা বন্ধ দেখে সামরিক বাহিনীর একটি অংশ চরম প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই উত্তপ্ত অংশটিকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের একটি অংশ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তন করে। সেই ঘটনায় শেখ মুজিব ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। এরপর খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সাধারণ মানুষ বাকশালী শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে প্রাথমিক স্বস্তি পেলেও এই পরিবর্তন শাসনব্যবস্থায় কোনো স্থিতি আনতে পারেনি, বরং আরও গভীর অস্থিরতার জন্ম দেয়। ক্ষমতাচ্যুত অংশটি এই পরিবর্তন মেনে নেয়নি এবং পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিতে থাকে। এই সময় রাজনৈতিক দল ও স্বাভাবিক রাজনীতি স্থগিত হয়ে পড়ায় বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল সামরিক বাহিনীকে ব্যবহারের চেষ্টা করে, ফলে বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে।
এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ তার অনুগত কয়েকজন কর্মকর্তার সমর্থনে ৩ নভেম্বর বিদ্রোহ করেন। তারা সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করেন। চেইন অব কমান্ড ভেঙে সেনাপ্রধানের পদ থেকে জিয়াউর রহমানকে সরিয়ে খালেদ নিজেকে নতুন সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন।
খালেদ বিভিন্ন পক্ষকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও অচিরেই স্পষ্ট হয় যে, ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যই প্রধান ছিল। ৩ নভেম্বরের বিদ্রোহের সময় মোশতাক সরকারকে সরানোর চেষ্টার পাশাপাশি ৩ নভেম্বর রাতে রহস্যজনক জেলহত্যার ঘটনা ঘটে, যেখানে চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান নিহত হন। এই অভ্যুত্থানের পর খালেদ মোশাররফ ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে যুক্ত সামরিক কর্মকর্তাদের নিরাপদ বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
তবে সামরিক বাহিনীতে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। তিন দিন ধরে রেডিও-টেলিভিশন বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সংহত করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। সাধারণ সৈনিক ও কর্মকর্তারা এই অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই ও বিদেশি প্রভাবের আশঙ্কায় সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। খালেদের অনুসারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মিছিলে সাধারণ সৈন্যদের মধ্যে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর সুবহে সাদেকের সময় সামরিক ছাউনিগুলোতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটে। সাধারণ সৈনিকেরা রাজপথে নেমে আসেন এবং বন্দীদশা থেকে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। `বাংলাদেশ জিন্দাবাদ` এবং স্বাধীনতাবিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে সৈনিকেরা রাজপথে নামলে দেশের সাধারণ জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের সাথে যোগ দেয়। সিপাহী ও জনতার এই ঐতিহাসিক সংহতি রাজপথে এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করে, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি।
বাংলাদেশের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনার মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য পাওয়া যায়:
প্রথমত, উভয় ক্রান্তিকালেই সাধারণ সৈনিক এবং দেশের মেহনতী জনতা এক হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রেখেছিল।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ হলে উভয় সময়েই সাধারণ মানুষ ও সামরিক সদস্যরা দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয়েছিল।
তৃতীয়ত, উভয় ঘটনাতেই জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল বিশেষ নজরকাড়া। ১৯৭১ সালে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করে তিনি জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, আর ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে সেনা ছাউনিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দেশকে নেতৃত্বহীনতা থেকে রক্ষা করতে তিনি মূল ভূমিকা পালন করেন।
৭ নভেম্বরের সময় সামরিক বাহিনীতে চক্রান্ত ও অন্তর্ঘাত সৃষ্টির নানা চেষ্টা হয়েছিল। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল তাহের ও তার অনুসারীরা বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নামে অফিসার হত্যার মতো আত্মঘাতী তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছিল। তবে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান মুক্ত হয়ে কঠোর হাতে সেনাশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন এবং এই অরাজকতা বন্ধ করেন। ৭ নভেম্বরের মূলধারা ছিল দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনতার সংহতি, যা শেষ পর্যন্ত সেনাশৃঙ্খলা ও দেশের সার্বভৌমত্ব পুনপ্রতিষ্ঠা করেছিল।
পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, ৭ নভেম্বরের সংহতির পর বাংলাদেশে পুনরায় বহুদলীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, সংবাদপত্র ও নাগরিক স্বাধীনতা এবং সর্বজনীন গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে এসেছিল। দিনাজপুর টিভি ডট কম-এর পাঠকদের জন্য ইতিহাস বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, এই বিপ্লব বাংলাদেশকে একদলীয় শাসন ও বৈদেশিয় নির্ভরতা থেকে বের করে নিজস্ব জাতীয় পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন