জুন ১৮, ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
উত্তরের শান্ত জনপদ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানা সংলগ্ন মৌসুমী আমের বাজার এখন হরেক জাতের সুমিষ্ট আমে ভরপুর। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত এই বাজারে বর্তমানে রাজত্ব করছে রূপালী, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগর, বারি-৪, বারি-১, মিশ্র ও লাখনার মতো জনপ্রিয় সব জাত। মূলত ফজরের নামাজের পরপরই ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত এই হাটের মূল বেচাকেনা চলে।
মাত্র তিন সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই হাটে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে।ঐতিহ্যবাহী মিশ্র আমের বিশেষ কদর থাকায় আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা প্রতিদিন এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। আমের পাশাপাশি এই হাটে লিচু, কাঁঠাল ও লটকনও বেশ ভালো পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে।
তবে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হলেও বাজার দর নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পর্যাপ্ত পাইকার না আসায় বাগান মালিক ও আড়তদাররা আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
আবহাওয়ার কারণে আমের দাম ঘন ঘন ওঠানামা করলেও খুচরা ক্রেতারা ন্যায্য দামে আম কিনতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চাহিদা থাকায় আড়তদার ও বেপারিরা এখান থেকে আম প্যাকেজজাত করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই মৌসুমী ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক বেকার যুবক আম বাণিজ্যে যুক্ত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে যে এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডাক বিভাগের গাড়ি এবং ট্রেনের মাধ্যমে কম খরচে বিভিন্ন জেলায় আম পরিবহনের সুবিধা পাওয়ায় চাষিরা উপকৃত হচ্ছেন। স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মতে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকা সচল হয় মৌসুমী আমের বাণিজ্যকে কেন্দ্র করেই। ভবিষ্যতে এখানে আমভিত্তিক হিমাগার ও শিল্প কারখানা গড়ে উঠলে এবং আম রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হলে চাষিরা অনেক বেশি লাভবান হতে পারবেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন