জুন ৩০, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় স্বামী ও সন্তান হারিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন পঁয়ষট্টি বছর বয়সী এক অসহায় বৃদ্ধা। উপজেলার পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের টাটাকপুর গ্রামের বাসিন্দা তহমিনা নামের এই বৃদ্ধা এখন একটি নিরাপদ বাসস্থান ও বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ৩০ জুন মঙ্গলবার স্থানীয় সূত্রে তাঁর এই অবর্ণনীয় কষ্টের চিত্র ও দুর্ভোগের কথা জানা গেছে।বাবার দেওয়া মাত্র তিন শতক জমির ওপর একটি মাটির জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে কাটছে তাঁর জীবনের শেষ সময়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তহমিনার স্বামী রইচ উদ্দিন বহু বছর আগে মারা যান। একসময় তাঁর সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। সন্তানদের লালন-পালন ও সংসার চালাতে তিনি অতীতে একটি ছোট দোকান পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুর হিসেবে মাটি কাটার কঠিন কাজও করেছিলেন। অমানুষিক পরিশ্রম করে মেয়েকে বিয়ে দিলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ছেলে আলাদা হয়ে অন্যত্র নতুন সংসার গড়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধা মায়ের কোনো খোঁজখবর নেয় না। ফলে জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে সম্পূর্ণ একাকী ও নিদারুণ অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।
বর্তমানে তহমিনার বসবাসের মাটির ঘরটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘরের দেয়াল ভেঙে হেলে পড়েছে এবং জরাজীর্ণ টিনের ছাপড়াটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রান্নাঘরটিও প্রায় ধ্বংসাবশেষে পরিণত হওয়ায় ভাঙা চুলার পাশে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তাঁকে কোনো রকমে দৈনন্দিন রান্না সম্পন্ন করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম এলেই ঘর ধসে পড়ার তীব্র আতঙ্কে তাঁর দিন ও নির্ঘুম রাত কাটে। এর চেয়েও বড় কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে দৈনন্দিন বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র অভাব।
বাড়িতে থাকা একমাত্র টিউবওয়েলটি বহু বছর আগে চুরি হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তাঁকে প্রতিদিন প্রায় আধা কিলোমিটার পথ হেঁটে স্থানীয় একটি ঈদগাহ মাঠের পাশ থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। বয়সের ভারে নূব্জ শরীরে এই দীর্ঘ পথ চলা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় অনেক দিন তাঁর কপালে দুবেলা খাবারও জোটে না। সরকারি সহায়তা পাওয়ার নিয়মকানুন বা আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত এই বৃদ্ধা এখন কেবল একটি নিরাপদ ঘর ও একটি টিউবওয়েলের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন