রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
ঢেমঢেমিয়া কালী মেলা

দিনাজপুরে ঐতিহ্যবাহী ঢেমঢেমিয়া মেলা, মহিষের দামে চমক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৫, ০৭:২৯ পিএম

দিনাজপুরে ঐতিহ্যবাহী ঢেমঢেমিয়া মেলা, মহিষের দামে চমক

দিনাজপুর টিভি

ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার সীমান্ত ঘেঁষে বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়নের সোনাচালনী ও চাপাড়া মোজায় অবস্থিত ২০০ বছরের ঐতিহাসিক ঢেমঢেমিয়া কালী মেলা জমে উঠেছে, যা চলবে আরও বেশ কয়েকদিন। এই মেলার সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য ও প্রধান আকর্ষণ হলো মহিষের বাজার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এই মেলায় ছুটে এসেছেন মহিষ কেনাবেচা করতে, তবে সবচেয়ে বেশি ব্যবসায়ী এসেছেন জামালপুর জেলা থেকে।

জামালপুর থেকে আগত ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের এলাকার মানুষ মহিষ পালতে এবং মহিষের দুধ খেতে খুব ভালোবাসে, একারণে শুধুমাত্র এই কালী মেলা উপলক্ষেই জামালপুর থেকে প্রায় চার শতাধিক লোক মহিষ কিনতে এসেছেন। যদিও ব্যবসায়ীদের মতে, আগের তুলনায় মেলা এখন অনেক ছোট হয়ে গেছে, প্রায় চার ভাগের এক ভাগে এসে ঠেকেছে, তবুও বেচাকেনা মন্দ নয়।

মেলায় মহিষের দামও বেশ চড়া; ব্যবসায়ীরা জানান, তারা ৪ লাখ ১৫ হাজার থেকে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা জোড়া মহিষ বিক্রি করেছেন, এমনকি কিছু মহিষ সাড়ে ৬ লাখ টাকা পর্যন্তও বিক্রি হয়েছে। তবে এই ঐতিহ্যবাহী মেলায় বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেন হলেও ব্যবসায়ীরা বেশ কিছু মৌলিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট বা বাথরুমের অভাব এবং পরিষ্কার পানির তীব্র সংকট রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো আর্থিক নিরাপত্তা; একেকজন ব্যবসায়ী ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা নগদ লেনদেন করেন, কিন্তু সেই টাকা নিয়ে নিরাপদে যাতায়াতের কোনো বিশেষ ব্যবস্থা না থাকায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, যা ভবিষ্যতে তাদের মেলায় আসতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। ব্যবসায়ীদের মতে, মেলাটি এবার কিছুটা আগে ("আয়গড়") অনুষ্ঠিত হওয়ায় বেচাকেনা সামান্য ধীরগতির, কারণ কৃষকদের আবাদে নামতে এখনও ১৫-২০ দিন বাকি আছে।

এই মেলার একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে; বাংলা ১২৮০ সালে কার্তিক মাসের অমাবস্যার রাতে হিন্দুদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী একটি পাঠাবলির মাধ্যমে এই মেলার সূচনা হয়েছিল। সে সময় মেলার দায়িত্ব পালন করেন শ্রীযুক্ত সংশয় সরকার এবং জমিদাতা হিসেবে প্রধান ছিলেন চাপাড়ার বাসিন্দা মরহুম জবিরউদ্দিন শাহ। স্বল্প পরিসরে শুরু হলেও মেলার সুনাম আজ সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এই মেলার নামানুসারে এলাকাবাসীর সহায়তায় এখানে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে।