বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালি খুলতেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বড় দরপতন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১১:৪১ এএম

হরমুজ প্রণালি খুলতেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বড় দরপতন

জ্বালানি তেলের বাজার

দীর্ঘ উত্তেজনার পর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছে ইরান। ইরানি কর্মকর্তাদের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে। বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক মাসের তুলনায় বর্তমানে তেলের বাজারদর বেশ নিম্নমুখী।

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ইউএস অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। 

দিনের লেনদেন শেষে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে এই মানের তেল ৯০ ডলার ৩৮ সেন্টে স্থির হয়েছে। তেলের এমন দরপতন বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে এর মধ্যেও ওয়াশিংটন ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর তাদের কঠোর নৌ অবরোধ বহাল রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ একটি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে এই অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এই সংঘাতের পর থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয় বলে এর বন্ধ হয়ে যাওয়া তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছিল। এখন যুদ্ধবিরতি এবং প্রণালি খুলে দেওয়ার ফলে বাজার স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটেনি। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে তেলের দামের গতিপ্রকৃতি।