রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৩, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে তেলের দাম।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠক ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে পতন দেখা গেছে। টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বগতির পর এদিন বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল রয়েছে।বুধবার (১৩ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.২২ ডলার কমেছে। এতে এই জ্বালানি তেলের দাম ১০৬.৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১.১৬ ডলার কমে ১০১.২ ডলারে নেমে এসেছে।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তেলের বাজারকে এখনো চাপে রাখছে। 

বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সামরিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। পরে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করলে সরবরাহ সংকটের শঙ্কা আরও বেড়ে যায়। 

এর প্রভাবে দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথের নিরাপত্তা নিয়ে সামান্য শঙ্কাও বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এর আগে মঙ্গলবার তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়াকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে তাঁর চীনের সহায়তার প্রয়োজন নেই। 

তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণ। চীন বর্তমানে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ফলে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বেইজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক বাজার।গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের তথ্যমতে, সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় চলতি বছরের বাকি সময়েও তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে। তেলের দামের এই অস্থিরতার প্রভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। 

গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আপাতত সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে বলেও বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে তেলের বাজারে আরও বড় ওঠানামার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর প্রভাব সরাসরি বৈশ্বিক পরিবহন ও উৎপাদন খাতে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য তেলের এই উচ্চমূল্য ও অস্থিরতা নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বাজারের স্থিতিশীলতা এখন অনেকাংশেই বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দুই বিশ্বনেতার বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে বড় দেশগুলোর মধ্যে এখনো কোনো ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত আসেনি।