ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ফলাফল ঘোষণা করেন। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে বৃত্তির অর্থ ও বছরে এককালীন অনুদান পাবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এবারের পরীক্ষায় সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেছে।শিক্ষামন্ত্রী জানান, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় মেধা বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৪৫০ টাকা এবং বাৎসরিক এককালীন ৫৬০ টাকা অনুদান পাবে।
অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ৩০০ টাকা এবং বাৎসরিক এককালীন ৩৫০ টাকা হারে বৃত্তি পাবে। এই বৃত্তি কার্যক্রম মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এই অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা নির্ধারিত মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছিল, যার মধ্যে ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ১৪ হাজার ৭০০ জনকে মেধা বৃত্তি এবং ৩১ হাজার ৫০০ জনকে সাধারণ বৃত্তি প্রদানের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ইবতেদায়ি ৫ম শ্রেণিতে ৬৩ হাজার ৯৩০ জন এবং দাখিল ৮ম শ্রেণিতে ৪৩ হাজার ৭০৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। কারিগরি বোর্ডের অধীনে জেএস ও জেডি ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২ হাজার ৬১১ জন শিক্ষার্থী।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই পাঁচটি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। দাখিল ও ইবতেদায়ি স্তরেও সমমানের নম্বরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রে পরীক্ষার মান ছিল ৫০০ নম্বর। মন্ত্রী তার বক্তব্যে সফল শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি যারা বৃত্তি পায়নি তাদের নিরুৎসাহিত না হয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
ফলাফল প্রকাশের সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই সাফল্য শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, এর পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন ও দ্রুত ফলাফল প্রকাশে সহযোগিতা করার জন্য তিনি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী এবং শিক্ষা পরিবারের সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। ফলাফল ইতিমধ্যে সকল শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের রোল নম্বরের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন