শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬,

দাখিলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের বিনা বেতনে পড়ার নির্দেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

দাখিলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের বিনা বেতনে পড়ার নির্দেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের

দাখিল পরীক্ষায় মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়াশোনা করার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। একই সাথে বৃত্তির অর্থ কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়া সরাসরি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে ইএফটি প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে মাদ্রাসা বোর্ড। বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনামূলক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়।

বোর্ডের প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, চতুর্থ বিষয় বাদে সর্বনিম্ন জিপিএ-৩ পাওয়া শিক্ষার্থীরা বৃত্তির বিবেচ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৫-এর ভিত্তিতে মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। বৃত্তি বণ্টনে ছাত্র ও ছাত্রীদের মধ্যে সমান ৫০ শতাংশ হারে অনুপাত রাখা হয়েছে। সাধারণ ও বিজ্ঞান বিভাগের মধ্যে বৃত্তি বণ্টনের এই অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ৩:৩২।

বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, অনুমোদিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন আদায় করতে পারবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম অমান্য করে মাসিক বেতন দাবি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃত্তির টাকা সরাসরি হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে জিটুপি বা গভর্নমেন্ট টু পারসন পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীদের আগামী সাত দিনের মধ্যে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত ব্যাংক হিসাব নম্বর জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্ত প্রযোজ্য হবে। শিক্ষার্থীকে অবশ্যই যেকোনো তফসিলভুক্ত ব্যাংকে হিসাব খুলতে হবে এবং সেই ব্যাংকে অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা চালু থাকতে হবে।

তবে বৃত্তি সুবিধা সচল রাখতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, সন্তোষজনক শিক্ষাগত অগ্রগতি ও সদাচরণ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, বিলম্ব ভর্তি কিংবা অসুস্থতাজনিত কারণে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত পড়াশোনায় বিরতি গ্রহণযোগ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।

একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একসাথে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীরা বৃত্তির সুবিধা পাবেন না। কোনো শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করলে তা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। সরকার প্রয়োজনে বৃত্তির পরিমাণ, সময়সীমা বা শর্ত পরিবর্তন করার পূর্ণ ক্ষমতা সংরক্ষণ করে বলে নিশ্চিত করেছে দিনাজপুর টিভি ডট কম।