নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক পোস্ট দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি। তবে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ভাষার পোস্ট ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই অভিনেত্রী।
আদালতের কার্যক্রম শেষে বের হওয়ার সময় তাকে কেউ গায়ে হাত দিয়েছেন বা ব্যাড টাচ করেছেন বলে অভিযোগ করেন পরীমনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরাও সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এর কিছুক্ষণ পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মাত্র দুটি শব্দের একটি পোস্ট দেন পরীমনি। পোস্টটির ভাষা অত্যন্ত আপত্তিকর ও আক্রমণাত্মক ছিল। তবে ঠিক কাকে বা কোন ঘটনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি এই ধরনের মন্তব্য করেছেন, তা পোস্টে স্পষ্ট করেননি।
পোস্টটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এতে প্রায় ১২ হাজার লাইক পড়ে। তবে অভিনেত্রী এই পোস্টে মন্তব্য করার সুযোগ বন্ধ রেখেছিলেন, ফলে অনুসারীরা সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি।
পরীমনির এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনদের একটি বড় অংশ মনে করেন যে একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর কাছ থেকে এই ধরনের ভাষার ব্যবহার একেবারেই অনভিপ্রেত। তাদের মতে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ, অস্বস্তি বা বিরক্তি যাই থাকুক না কেন, জনসমক্ষে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও সংযমী হওয়া জরুরি।
অন্যদিকে, পরীমনির অনুসারী ও ভক্তদের একটি অংশ তার এই আচরণকে আদালত প্রাঙ্গণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, সাংবাদিকদের অনধিকার প্রবেশ ও হট্টগোলের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিক্ষিপ্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন পরীমনি। গত বুধবার এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজির হননি তিনি। তার আইনজীবী সময়ের আবেদন করলেও ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে সশরীরে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন পরীমনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং পরবর্তীতে ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট এই আইনি স্বস্তিকে ছাপিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইনি জটিলতার পাশাপাশি এবার তার প্রকাশ্য আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাষার ব্যবহার নিয়েও চলচ্চিত্র অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন