অক্টোবর ২০, ২০২৫, ০৪:৪২ পিএম
পায়ে শেকল বাঁধা, একটি ঘরে দিনের পর দিন একা বন্দি জীবন, এক পর্যায়ে খাবার ফুরিয়ে গেলে বাঁচার তাগিদে কাঁচা আলু চিবিয়ে খাওয়া—এমনই এক যন্ত্রণাদায়ক ও শ্বাসরুদ্ধকর গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘বন্দি’। মিকসেতু মিঠুর গল্প ও পরিচালনায় নাটকটি প্রচারের পর থেকেই দর্শক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে, বিশেষ করে অভিনেতা আরশ খানের অভিনয়ের জন্য।
নাটকটি গত বৃহস্পতিবার বৈশাখী টেলিভিশনে প্রচারের পর শুক্রবার ‘ব্যাকবেঞ্চার ফিকশন’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পায়। মুক্তির পর থেকেই ইউটিউবের মন্তব্য বিভাগে দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া উপচে পড়ছে। একজন দর্শক লিখেছেন, “বন্দি শুধু একটা নাটক নয়, এটা মানুষের অন্তর্গত যন্ত্রণা ও মুক্তির গল্প।” মাকসুদা আকতার নামে আরেক দর্শক লিখেছেন, “অনিন্দ্য সুন্দর একটা গল্প ও অভিনয়। তরুণ প্রজন্মের জন্য এই নাটকটি অনেক বড় একটা মেসেজ।”
এই প্রশংসার কারণ শুধু গল্পই নয়, চরিত্রের প্রতি অভিনেতা আরশ খানের অবিশ্বাস্য নিষ্ঠাও বটে। নাটকটির প্রধান সহকারী পরিচালক কান্তি বুসান তরফদার জানান, চরিত্রের ক্ষুধার্ত অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে আরশ খান আধপচা কাঁচা আলু চিবিয়ে খেয়েছিলেন, যা দেখে ইউনিটের সবাই চমকে যায়। শুধু তাই নয়, বন্দিত্বের বাস্তব রূপ দিতে তিনি শুটিংয়ের পুরোটা সময় পায়ে আসল লোহার শেকল পরে ছিলেন এবং দুই দিন প্রায় আঠারো ঘণ্টা শুধু স্যুপ খেয়েছিলেন, যাতে তাকে ক্ষুধার্ত ও বিধ্বস্ত দেখায়।
নির্মাতা মিকসেতু মিঠু জানান, “নেশার খপ্পরে পড়ে আমাদের সমাজটা নানা দিক দিয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গল্পে আমি সেই দিকটাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এই নাটক দেখে একজন মানুষও যদি নেশার পথ থেকে সরে আসতে পারে, সেটাই আমার বড় অর্জন।”দর্শকদের ইতিবাচক সাড়ায় উচ্ছ্বসিত অভিনেতা আরশ খান বলেন, “কিছু কাজ করে অসম্ভব ভালো লাগে। কাজের শেষে দর্শক প্রতিক্রিয়া দেখে মনটা শীতল হয়ে যায়। বন্দি তেমন একটি কাজ। প্রচারের পর থেকেই ভালো সাড়া পাচ্ছি।”



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন