রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

১৫-২০ দিন ধরে কাশি থামছে না, জানুন কী করবেন?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৮, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

১৫-২০ দিন ধরে কাশি থামছে না, জানুন কী করবেন?

কাশির সমস্যা ও প্রতিকার

বসন্তের এই সময়ে বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী কাশির প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় প্রতিটি ঘরেই কেউ না কেউ এই সমস্যায় ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ওষুধ বা ঘরোয়া টোটকায় কাশি কমছে না এবং তা ১৫ থেকে ২০ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. সাঈদ হোসেন এই দীর্ঘস্থায়ী কাশির পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করেছেন। 

তাঁর মতে ভাইরাল সংক্রমণ পরবর্তী শ্বাসনালীর সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া এর অন্যতম কারণ। ফ্লু বা সর্দি সেরে গেলেও সংক্রমণের প্রভাবে শ্বাসনালী স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে যা টানা কয়েক সপ্তাহ কাশির কারণ হতে পারে।

বায়ুদূষণ এবং শুষ্ক মৌসুমের ধূলিকণা কাশির স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য সরাসরি দায়ী। বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি বা সাইনাসের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য বাইরের ধোঁয়া ও ধূলিবালি মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে। এছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে সাধারণ হাঁপানি না থাকলেও কেবল কাশির মাধ্যমে অ্যাজমার লক্ষণ প্রকাশ পায় যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমা বলা হয়। 

পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড গলার দিকে উঠে আসা বা উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও দীর্ঘস্থায়ী শুকনো কাশি হতে পারে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রচুর পরিমাণে কুসুম গরম পানি পান করা আদা ও মধু মিশ্রিত লিকার চা এবং দিনে অন্তত তিনবার লবণ পানিতে গার্গল করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।বয়স্কদের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহের বেশি কাশি থাকলে সেটিকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। বার্ধক্যের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় দীর্ঘস্থায়ী কাশি অনেক সময় নিউমোনিয়া বা হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। 

বিশেষ করে হার্টের সমস্যার কারণে শরীরে পানি জমলে দীর্ঘ সময় ধরে কাশি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া কাশির সাথে যদি শরীরের ওজন অপ্রত্যাশিতভাবে কমে যায় তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। বাইরে চলাচলের সময় মাস্ক ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এই সময়ে অসুস্থতা প্রতিরোধের প্রধান উপায়। শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এখন সবচেয়ে জরুরি।