শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাঁটুর ক্ষতি করে প্রতিদিনের যেসব পরিচিত বদভ্যাস

স্বাস্থ্য ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

হাঁটুর ক্ষতি করে প্রতিদিনের যেসব পরিচিত বদভ্যাস

ছবি: Ai

হাঁটু মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্থিসন্ধি হওয়ায় প্রাত্যহিক হাঁটাচলা, সিঁড়ি ব্যবহার, বসা কিংবা দাঁড়ানোর মতো প্রায় প্রতিটি শারীরিক কাজেই এর ওপর স্বাভাবিক চাপ পড়ে। এই অস্থিসন্ধির জটিলতা কেবল বয়স বৃদ্ধির সাথেই সম্পর্কিত এমন ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। বরং প্রতিদিনের অসতর্ক জীবনযাপনের কিছু প্রচলিত আচরণ ধীরে ধীরে হাঁটুর সন্ধিস্থল ও সংলগ্ন লিগামেন্টে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় একনাগাড়ে বসে থাকা, শারীরিক অনুশীলনের শুরুতে প্রস্তুতিমূলক শরীরচর্চা বা ওয়ার্মআপ বাদ দেওয়া কিংবা অসংগতিপূর্ণ যন্ত্রণা সত্ত্বেও কসরত চালিয়ে যাওয়ার মতো অভ্যাসগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করতে পারে। এগুলো অব্যাহত থাকলে হাঁটুতে অনমনীয়তা, মাংসপেশির দুর্বলতা ও স্থায়ী অস্বস্তি বাসা বাঁধে।

দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকার কুফল সরাসরি আঘাত হানে হাঁটুর পেশিতে। দিনের অধিকাংশ সময় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বসে কাটালে হাঁটুর স্থায়িত্ব প্রদানকারী পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষত উরু এবং নিতম্বের পেশি শক্তি হারালে দেহের সম্পূর্ণ ভারসাম্যের চাপ সরাসরি হাঁটুতে স্থানান্তরিত হয়। দীর্ঘক্ষণ হাঁটু ভাঁজ করে বসে থাকার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে অস্থিসন্ধিতে টান ও অস্বস্তি অনুভূত হওয়া এর অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ। এই সমস্যা প্রতিহত করতে টানা কয়েক ঘণ্টা বসে থাকার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময় পর পর উঠে হাঁটাচলা করা কিংবা পা সামান্য নাড়াচাড়া করা প্রয়োজন।

শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা না করে অতিরিক্ত সিঁড়ি ভাঙাও হাঁটুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সিঁড়ি ওঠানামা ভালো মানের শরীরচর্চা হলেও শরীরের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও শক্তি না থাকলে তা উপকারের চেয়ে অপকার ডেকে আনে। যাদের আগে থেকেই জয়েন্টে সমস্যা বা পায়ের পেশিতে দুর্বলতা রয়েছে, তাদের জন্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে সিঁড়ি ব্যবহার করা আরও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন সিঁড়ি ব্যবহার করতে হলে শারীরিক সহনশীলতা অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে তা বাড়ানো এবং ওঠানামার সময় দেহের সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা আবশ্যক।

প্রস্তুতিমূলক গা গরম না করে হঠাৎ ভারী ব্যায়ামে প্রবেশ করা পেশি ও অস্থিসন্ধির জন্য চরম বিপজ্জনক। পর্যাপ্ত ওয়ার্মআপ ছাড়া দৌড়ানো, লাফানো বা ভারী স্কোয়াটের মতো কঠিন কসরত শুরু করলে লিগামেন্টে ক্ষতিকর চাপ পড়ে। ব্যায়ামের পূর্বে কয়েক মিনিট হালকা অঙ্গ সঞ্চালনার মাধ্যমে শরীরকে প্রস্তুত করে তোলা এবং ধীরে ধীরে অনুশীলনের তীব্রতা বাড়ানো উচিত। অনুশীলনের সময় হাঁটুর যেকোনো ধরনের ব্যথা বা অসাড়তাকে স্বাভাবিক মনে করে অবহেলা করা ঠিক নয়।

ব্যথা যদি বারবার অনুভূত হয় বা দীর্ঘস্থায়ী আকার ধারণ করে, তবে দ্রুত সেই সুনির্দিষ্ট ব্যায়ামটির তীব্রতা কমাতে হবে বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি দৈনন্দিন হাঁটা ও ব্যায়ামের জন্য ভুল মাপের কিংবা সঠিক সাপোর্টহীন জুতা ব্যবহার করলে ভূমিতে পা ফেলার স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে পদতলের ত্রুটিপূর্ণ চাপ সরাসরি হাঁটু পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা যেমন পেশিকে দুর্বল করে, তেমনি অতিরিক্ত শরীরের ওজনও হাঁটুর ওপর প্রতিনিয়ত বাড়তি ভার চাপায়।

ভারী ওজনের ফলে প্রতিদিনের সাধারণ নড়াচড়াতেই হাঁটুতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়রোগের ক্ষেত্র তৈরি করে। দ্রুত ওজন কমানোর কঠোর খাদ্য নিয়ন্ত্রণের বদলে পরিমিত শারীরিক সক্রিয়তা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতা মেনে সচেতনভাবে দৈনন্দিন রুটিন পরিচালনা করাই হাঁটুর সুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী করার মূল ভিত্তি।