সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
খাবার কিংবা পানি গিলতে গেলে গলায় ব্যথা, বুক জ্বালা কিংবা খাদ্যনালিতে খাবার আটকে থাকার অনুভূতিকে অনেকেই সাধারণ গ্যাস বা অ্যাসিডিটি ভেবে অবহেলা করেন। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এসব উপসর্গ সাধারণ গ্যাস্ট্রিক নয়, বরং খাদ্যনালির মারাত্মক প্রদাহ বা ইসোফ্যাগাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।
খাদ্যনালির ভেতরের আবরণে প্রদাহ তৈরি হলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। গলা থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত খাবার পৌঁছে দেওয়ার মূল পথ হলো খাদ্যনালি। এই নালির ভেতরের টিস্যুতে জ্বালা বা ফোলাভাব দেখা দিলে খাবার গিলতে তীব্র কষ্ট অনুভূত হয় এবং কখনো কখনো বুকের মাঝামাঝি তীব্র ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, পাকস্থলীর অ্যাসিড বারবার খাদ্যনালিতে উঠে আসা, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অ্যালার্জিজনিত জটিলতায় এ রোগের উৎপত্তি ঘটে।
এর মধ্যে গ্যাস্ট্রোইসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্স বা জিইআরডি হলো এই প্রদাহের অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত অ্যাসিড খাদ্যনালির আবরণে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে। অনেকে পর্যাপ্ত পানি না পান করে ওষুধ সেবন করেন অথবা ওষুধ খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়েন। এর ফলে ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল খাদ্যনালিতে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে ক্ষতের সৃষ্টি করে। কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক এবং হাড়ের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। পাশাপাশি অ্যালার্জি বা খাবারের প্রতিক্রিয়ায় খাদ্যনালিতে ইওসিনোফিল নামের শ্বেত রক্তকণিকা জমেও প্রদাহ হতে পারে।
ছত্রাক, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে সংক্রামক ইসোফ্যাগাইটিস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা মূলত দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ব্যক্তিদের বেশি আক্রান্ত করে। ইসোফ্যাগাইটিস ও খাদ্যনালির ক্যানসার এক রোগ নয়। তবে অ্যাসিডের কারণে খাদ্যনালির টিস্যুতে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন ঘটলে ব্যারেট খাদ্যনালির মতো জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে ক্যানসারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, খাবার আটকে যাওয়া, দ্রুত ওজন হ্রাস পাওয়া বা তীব্র বুকব্যথা থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত এন্ডোস্কোপি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন