শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
টিকাদান কর্মসূচি

হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে শনিবার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১২:২১ পিএম

হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে শনিবার

ছবি: দিনাজপুর টিভি গ্রাফিক্স

দেশজুড়ে দ্বিতীয় দফার হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এই স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম থেকে বাদ পড়া শিশুদেরও পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এবার মোট ৩৪ লাখ শিশুকে এই বিশেষ টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর আগে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির সার্বিক দিক তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অংশীদার ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত প্রথম দফার টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছিল। 

সেখানে এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও কার্যক্ষেত্রে ১০২ থেকে ১০৪ শতাংশ সাফল্য অর্জিত হয়। তবে পরবর্তীতে দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণের সময় মাঠপর্যায়ে দেখা যায়, প্রায় ৪৩ লাখ শিশু ওই টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থেকে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষ ফলো-আপ বা মপ-আপ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আরও ১৯ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়। হিসাব অনুযায়ী এখনও ২৪ লাখ শিশু টিকার বাইরে অবস্থান করছে।

এর সঙ্গে বিগত তিন মাসে নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা আরও প্রায় ১০ লাখ শিশু যুক্ত হয়েছে। এই দুই শ্রেণির সমন্বয়েই এবারের ক্যাম্পেইনে সর্বমোট ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। টিকা মজুত প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের মাধ্যমে আরও ৪৩ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে আনা হয়েছে। সরকারের কাছে আগে থেকে মজুত থাকা ১৫ লাখ ডোজ মিলিয়ে বর্তমানে মোট টিকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮ লাখ ডোজে। মাঠপর্যায়ে ১০ শতাংশ সাধারণ অপচয় বা ওয়েস্টেজ বিবেচনায় নিলেও প্রায় ৫২ লাখ কার্যকর ডোজ পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় থাকবে। ফলে নির্ধারিত ৩৪ লাখ শিশুকে সফলভাবে টিকা দেওয়ার পরও সরকারের হাতে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত ডোজ মজুত থাকবে।

কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হলেও টিকাদান থেমে থাকবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন, ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরও যেসব শিশু নতুন করে ছয় মাস পূর্ণ করবে, তাদের জন্য মপ-আপ টিকাদান কার্যক্রম নিয়মিত চালু থাকবে। এই বৃহৎ কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট, পরিচালক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবেন।

শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হালিমা জানান, হাম ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা পেতে শিশুদের জন্য এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করা অপরিহার্য। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের নিয়মিত ইপিআই সময়সূচি অনুসারে শিশুর ৯ ও ১৫ মাস বয়সে নির্ধারিত দুটি নিয়মিত ডোজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো বিশেষ অতিরিক্ত ডোজও সময়মতো সম্পন্ন করা জরুরি।