রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বন্দে মাতরম’ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি কেন বিতর্ক শুরু করলেন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ১২:৫০ পিএম

বন্দে মাতরম’ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি কেন বিতর্ক শুরু করলেন

ভারতের সংসদে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেছেন, গত শতাব্দীতে মুসলিম লীগের চাপে কংগ্রেস গানটির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। এই বিষয়ে তিনি সরাসরি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে দায়ী করেন।

এবং মুসলিম তোষণের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তোলেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই গানটির দেড়শো বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকার দেশজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করছে এবং সেই সূত্র ধরেই লোকসভায় আলোচনা শুরু হলে মোদি এই মন্তব্য করেন।

লোকসভায় আলোচনা শুরুর সময় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগের বিরোধিতার মুখে কংগ্রেস ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দেয়।

তাঁর দাবি, জওহরলাল নেহরু মুসলিম তোষণ করতে গিয়ে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। মঙ্গলবার রাজ্যসভাতেও এ বিষয়ে বিতর্ক হওয়ার কথা রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই বিতর্ক তোলা হয়েছে। প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেন, সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ তোলার সুযোগ খুঁজছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এই বিতর্ক অদ্ভুত—যে গান মানুষের হৃদয়ে আছে, তাকে নিয়ে নতুন বিতর্কের কী প্রয়োজন?" তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গে ভোটকে সামনে রেখে এই ইস্যুটি উসকে দিচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্কের ঐতিহাসিক সূত্রপাত ১৯৩৭ সালে। গানটির প্রথম দুটি স্তবকের পর হিন্দু ধর্মীয় শব্দাবলি ও চিত্রকল্প থাকায় মুসলিম লীগের নেতা মোহাম্মদ আলি জিন্নাহসহ অনেকেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। এরপর তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব জওহরলাল নেহরু ও সুভাষচন্দ্র বসু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শ গ্রহণ করেন।

রবীন্দ্রনাথের পরামর্শেই কংগ্রেস গানটির প্রথম দুটি স্তবককেই কংগ্রেস সংগীত হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পরও 'বন্দে মাতরম' না 'জন গণ মন' কোনটি জাতীয় সংগীত হবে, তা নিয়ে বহুবার বিতর্ক হয়। অবশেষে ১৯৫০ সালে সংবিধান সভার সভাপতির ঘোষণায় 'জন গণ মন' জাতীয় সংগীত এবং 'বন্দে মাতরম' জাতীয় গান হিসেবে মর্যাদা লাভ করে। গবেষকদের মতে, ঐতিহাসিকভাবে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল গানটির পরবর্তী স্তবকগুলোর ধর্মীয় ভাববস্তুর কারণে, প্রথম দুটি স্তবক নিয়ে আপত্তির সুযোগ ছিল না।