ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১১:১২ পিএম
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন রণতরী মোতায়েনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলো ইরানের জলসীমার কাছাকাছি এলে সেগুলোকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সক্ষমতা তেহরান অর্জন করেছে।
তার এই মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ওয়াশিংটনের জন্য একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। গত কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এমন সরাসরি সামরিক হুমকি খুব কমই দেখা গেছে। খামেনির এই বক্তব্যের পর থেকে বিশ্বজুড়ে জল্পনা শুরু হয়েছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং তাদের হাতে থাকা সম্ভাব্য গোপন অস্ত্র নিয়ে।
ইরানের সামরিক বাহিনী গত কয়েক বছরে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি প্রদর্শন করেছে। বিশেষ করে ফাত্তাহ সিরিজের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ দ্রুতগতিতে চলতে সক্ষম এবং এগুলো যেকোনো আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। খামেনির হুঁশিয়ারিতে মূলত এই প্রযুক্তির শক্তির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশাল আকারের মার্কিন রণতরীগুলো বর্তমান যুদ্ধকৌশলের প্রেক্ষাপটে ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে।
ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইরান তাদের ড্রোন প্রযুক্তিতেও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। আত্মঘাতী ড্রোন থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন এখন দেশটির সামরিক ভাণ্ডারে মজুদ রয়েছে। এর পাশাপাশি নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে একঝাঁক আক্রমণাত্মক বোট এবং সাবমেরিন তৈরি করেছে তেহরান। এগুলো বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো সংকীর্ণ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গেরিলা কায়দায় আক্রমণ চালাতে অত্যন্ত কার্যকর। ইরান মনে করে, সরাসরি সম্মুখ সমরে আমেরিকার বিশাল নৌবহরের সাথে পাল্লা দেওয়া কঠিন হলেও, আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে তারা মার্কিন রণতরীগুলোকে অচল করে দিতে সক্ষম।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই হুমকিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না এবং এই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। পেন্টাগনের দাবি, তাদের বিমানবাহী রণতরীগুলো বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত যুদ্ধজাহাজ এবং এগুলোর চারপাশের নিরাপত্তা বলয় ভেদ করা প্রায় অসম্ভব। তবে আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় যুদ্ধের কৌশল বদলে যাওয়ায় অতীতে যা দুর্ভেদ্য ছিল, তা এখন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব কেবল সামরিক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতি এবং তেলের বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। পারস্য উপসাগর দিয়ে বিশ্বের সিংহভাগ খনিজ তেল পরিবাহিত হওয়ায় এখানে কোনো সংঘাত শুরু হলে তার প্রভাব প্রতিটি মহাদেশে অনুভূত হবে। খামেনির এই বার্তা তাই আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন