শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউইয়র্কে এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে।

অনুষ্ঠানে ওই পাকিস্তানি সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারত সরকার কবে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করবে। এমন প্রশ্নের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আমাকে এই প্রশ্ন করছে?

এ কথা বলার পরপরই ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন জয়শঙ্কর। তখনো প্রশ্নকারী সাংবাদিক কথা বলতে থাকেন। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, পাকিস্তান ও তাদের মদদপুষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ভারতের নানা স্থানে সন্ত্রাসী হামলার পেছনে জড়িত।

এর আগে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর এক সশস্ত্র হামলায় এক নেপালি নাগরিকসহ ২৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত। নয়াদিল্লির দাবি ছিল, লক্ষ্যবস্তু করা ওই স্থাপনাগুলো লস্কর-ই-তাইয়েবা ও জইশ-ই-মুহাম্মদের মতো সশস্ত্র সংগঠনের ঘাঁটির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল।

এদিকে জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য তুলে ধরেছে ভারত। কাউন্সিলে ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, অন্য দেশের ভূখণ্ডের প্রতি নজর দেওয়া কিংবা সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার বদলে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া। ভারতীয় এই কূটনীতিকের দাবি, আন্তর্জাতিক ফোরামে নাটকীয়তা সৃষ্টি করে পাকিস্তানের গভীর অর্থনৈতিক সংকট ও ঋণনির্ভরতার সমাধান মিলবে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুন মাস থেকে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার এবং খাদ্য ও জরুরি ওষুধ সরবরাহে বাধা সৃষ্টির বিষয়গুলোও তিনি তুলে ধরেন।

তবে ভারতীয় এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে পাকিস্তান। কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে মেনে নিতেও শুরু থেকেই অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে ইসলামাবাদ।