বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের দাবি বাংলাদেশের

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের দাবি বাংলাদেশের

দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার মরিশাসের পোর্ট লুইসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকে এই দাবিটি জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। 

গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে প্রথম উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মরিশাসে ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার আগে দিল্লিতে এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা সম্পন্ন করেন। 

বৈঠকের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তির নিয়ম মেনে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে। দিল্লিতে সেই আবেদনের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে। তবে স্পর্শকাতর কূটনৈতিক বিষয় হওয়ায় সব তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

উল্লেখ্য যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তীব্র গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং বর্তমান সরকার তাকে বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে আগ্রহী।শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের পাশাপাশি এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে এই সফর অবশ্যই হবে, তবে সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে নিজেদের মধ্যে চিঠি বিনিময় করেছেন এবং ফোনে কথা বলেছেন। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছারই প্রতিফলন বলে তিনি মনে করেন।

দিল্লির ওই বৈঠকে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় পুরোপুরি স্বাভাবিক করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও স্থান পেয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক এবং বিমসটেককে আরও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা গেলে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে কোনো বড় বাধা থাকবে না।

শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমে অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে এবং শিগগিরই পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হবে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এই নতুন মোড়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বর্তমানে দুই দেশই তাদের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধানের লক্ষ্যে নিয়মিত যোগাযোগের ওপর জোর দিচ্ছে।