রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৯:৩২ এএম

আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান

সীমান্তে পাক বিমান হামলা

পাকিস্তানে সম্প্রতি ধারাবাহিক আত্মঘাতী হামলার ঘটনার পর আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসলামাবাদ। রোববার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, আফগানিস্তানের সীমানায় থাকা নির্দিষ্ট কিছু আস্তানা ও ক্যাম্প লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। 

মূলত পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলো এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করত বলে জানানো হয়েছে।

ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অনেক মুসল্লির প্রাণহানির ঘটনার পর এই সামরিক পদক্ষেপ নিল পাকিস্তান। আফগান সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার সীমান্তবর্তী দুটি প্রদেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে পাকতিকা প্রদেশে একটি ড্রোন হামলার মাধ্যমে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মাদরাসাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। 

এছাড়া নানগারহার প্রদেশেও পৃথকভাবে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। তবে আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য জানায়নি।পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, নিঁখুত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্থানগুলো নির্বাচন করে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর অন্তত সাতটি আস্তানায় একযোগে আঘাত হানা হয়েছে। 

এর পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলে সক্রিয় থাকা ইসলামিক স্টেট বা আইএস গোষ্ঠীর একটি সহযোগীদেরও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, তাদের হাতে এমন জোরালো প্রমাণ রয়েছে যে এই নাশকতামূলক হামলাগুলোর পরিকল্পনা আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্বের নির্দেশেই পরিচালিত হয়েছিল।মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, রাজধানী ইসলামাবাদ এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় হওয়া সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মূল হোতারা আফগানিস্তানে অবস্থান করছে। 

এ কারণেই আত্মরক্ষার খাতিরে তারা এই বিমান হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের এই ধরনের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন এবং দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন করে সংকটে ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে টিটিপি ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্থিরতা এই হামলার ফলে আরও জটিল রূপ ধারণ করতে পারে।